তামিম ইয়ামীনের ৫ কবিতা


প্রকাশিত:
১৩ মার্চ ২০২১ ২৩:২৮

আপডেট:
৩১ মার্চ ২০২১ ১৫:১১

 

কাব্যে উপেক্ষিতা

জগতে প্রসিদ্ধ তুমি অতুল গোলাপ

প্রতি পাপড়িতে ধরো রহস্য অতল

আমার তেমন কোনো নামডাক নাই

সংসারে কাজে লাগি, এটুকু সম্বল

 

আমাকে ভাজতে পারো আলু ও পটলে

মাছে ঝোলে অনায়াসে মিশে যেতে পারি

এমন সুপাচ্য। আর, তোমার স্বভাব-

যদিও ঢাকছো রূপে, আদতে আনাড়ি।

 

ফলাবেনা কোনো ফল, ফুল ফোটাতেই

নিঃশেষিত তুমি। তবু গোলাপ তোমার,

কাছে কিছু নই। কাব্যে উপেক্ষিতা, আর

 

-রূপ দেখে সাধারণও, নয় মশগুল-

 

সবজি সম্ভাবনায় খোয়া যাওয়া আমি

আনমনে ফুটে থাকা ভুল শিমফুল।

 

আয়ানের প্রেম

হাজার বছর ধরে তপস্যার ফল

এজন্মে রাধাকে আমি পেয়েছি সুবল

 

শরীরে ধরেছি গত জনমের পাপ

নতমুখে মেনে নিয়ে সব অভিশাপ

 

না মেরে পাষাণ বিধি দিলা এ কী বর

পৌরুষহীন কাটে আমার বাসর!

 

এদিকে হারামী কানু বাজায় মুরারী

আয়ান ঘরনী ছুটে যায় আনবাড়ি

 

সে সুরে অবশ সে যে, খসিছে বসন

দেহহীন বলে তার পেলামনা মন

 

শোনো গো রাধিকা প্রিয় শোনো বলি আমি

কৃষ্ণের অধিক প্রেম ধরে তব স্বামী

 

না পারি প্রকাশে তা গো না পারি ধারণ

তবু চাই পাও তুমি কানাইয়ের মন

 

ছাড়িয়া সারথ শত গোপিনীর দল

তব প্রতি অঙ্গ যেনো করে সে শীতল

 

দোহের মিলন হোক, মিলনের রাতে

ভাসাবো এ দেহ আমি কালযমুনাতে

 

আধেক ভাসাবো জলে ডুবে রবো আধা

পরজনমেও তবু তুমি হয়ো রাধা।

 

অনুষঙ্গ

হয়তো মরণ হবে মোলাকাত শেষে

বন্ধুর রাঙাহাসি করে যাবে খুন

ফুলের সুবাসে আমি মরে যেতে পারি

অথবা সে রূপ দেখে, যেমন আগুন

 

কিংবা এমন মৃদু জানবেনা কেউ

যেমন নীরবে ঝরে শেফালির ফুল

বৃষ্টির মতো তার সহজ পতন

একা বুক ফেটে মরে রৌদ্রে শিমুল

 

যেমন মরণ হয় সাগরের কাছে

নদীটির পথ চলা ফুরোয় যখন

এমন মরণও আছে বেঁচে যাওয়া খুব

চিরকূটে লিখে রাখে কেন সে কখন

 

যদি সে মরণ আসে মরে যাবো আমি

ঘোলাজল আর মরা নদীর দোহাই

জড়িয়ে ধরবো গলা শত্রুর মতো

যেভাবে তোমার প্রেমে রোজ মরে যাই

 

মরণযাত্রা কালে সাথী হবে কারা

পারি যদি মৃত্যুর আগে লিখে দিতে

মানে সে সহজ মরা জুটে যায় যদি

আমার কাফন হবে মায়ের শাড়িতে

 

জলের শরীর খুঁড়ে বানায়ো কবর

ভালো হয় বৃষ্টিতে নব বরষার

একটু বিষাদ দিও কফিনেতে মুড়ে

এ জীবন চেঁছে স্মৃতি তোমার আমার

 

মায়ের দুধের ঘ্রাণ, প্রেম স্মৃতি ছাড়া

আর কী কবরে নিব আর কী কী চাই

একটি গোলাপ দিও, খালি হাতে বলো

খোদার সামনে আমি কেম্নে দাড়াই!

 

ধানের কুসুম

যেনো কোনো ধানবীজ রুয়ে রাখি আমি

হালকা বাদামী খোসার ভিতর তারা

একদিন চালরূপে প্রতিভাত হবে-

 

যেরকম,

নীরবে বাড়ছো তুমি, আমার ক্বলবে।

 

এ শরীর খুঁড়ে, তারে তুলে আনো যদি,

দেখবে অঙ্কুরে-

তরল দুধের খনি বাঁধছে জমাট।

 

চাল বলে চেনো যারে,

আসলে সে বাঁট চিড়ে বের হয়ে

আমার মায়ের-

 

ধানের কুসুম হয়ে ফুটে উঠে ফের।

 

ইতি, বনলতা সেন

হাজার বছর নয় আমি এক সামান্য তরুণি

সিংহল সমুদ্র দূর, দেখিনাই বে অফ বেঙ্গল

আমাকে ভাঙিয়ে খায়, অপোগন্ড বালকের দল

আসলে পতিতা এক, মাঝেমাঝে এরকমও শুনি।

তবু ঋণি তার কাছে, অমরত্ব আমাকে দিলেন

কবিতার পাতা ফুঁড়ে কবেকার বনলতা সেন।

 

কোথায় পেলেন মুখে শ্রাবস্তীর কারুকার্য হায়

আমাকে দেখলে নাকি দিশা পায় নাবিকের দল

আর দূর দ্বীপ থেকে উড়ে আসে গন্ধবাহী ফল

আহারে জীবন বাবু, কবি, খুব হাসালে আমায়।

চোখই নেই আর নীড়! গরীবের ঘোড়া রোগ ক্যান?

আমি নেই আছে শুধু কবিতার বনলতা সেন।

 

এখানে দিনের শেষে শিশিরেরা আনে শুধু শীত

রোদেরা গন্ধবিহীন মুছবার নাই অবকাশ

নদীটাও মৃত আর হৃদয়েরা মৃতপ্রায় ঘাস

জোনাকির রঙ আজ কবেকার ধূসর অতীত।

কতো কথা বলে ফেললাম প্লিজ, ক্ষমা করবেন

মা দূর্গা সহায়, ইতি- আপনার বনলতা সেন।

 

লেখক পরিচিতি : তামিম ইয়ামীনের জন্ম ১৯৮৩ সালে শেরপুরে। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইবিএ থেকে বিবিএ। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। বর্তমানে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এখন পর্যন্ত ‘প্রায় প্রেম’ নামে তার একটি কবিতার বই প্রকাশ হয়েছে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top