মুক্তচিন্তার মানুষরাই সংখ্যালঘু

পরিবার ও রাষ্ট্রই আমাদের চিন্তার চালক ও শাসক


প্রকাশিত:
১৯ মে ২০২১ ২১:৩৭

আপডেট:
১৯ মে ২০২১ ২২:০৩

 

সম্প্রতি বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষ্যে মায়ের সাথে ছবি সহ ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বুলিং এর শিকার হওয়া অভিনয় শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী বলেছিলেন,বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার মানুষরাই সংখ্যালঘু। আমারও মনে হয়েছে তিনি যথার্থই বলেছেন।চঞ্চল চৌধুরী মুক্ত চিন্তার মানুষের সংখ্যালঘুতার কারন অনুসন্ধান করেছেন কিনা যানা যায়নি। তবে বিষয়টা ভাবনাই বটে।

আমরা জানি যে, হেগেল ও গ্রামসির রাষ্ট্র-সমাজ ভাবনা মতে রাষ্ট্রের বীপরিতে বা সহায়ক হিসেবে পরিবার ও রাষ্ট্রের মাঝখানে "সিভিল স্যোসাইটি" নামে একটা গ্রুপ/শ্রেনী থাকে বা থাকবার কথা। সেই "সিভিল স্যোসইটি" অনেক সমাজ বা রাষ্ট্রেে কখনো রাষ্ট্রের এপারেটাসের উপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এবং কখনো অন্যভাবে মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়া বা মানষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে সেটা (সিভিল স্যোসইটি) করুনভাবেই অনুপস্থিত! তাছাড়া সিভিল স্যোসাইটির অংশ তথা অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়ালের সংখ্যাও বাংলাদেশে প্রায় শূন্যের কোটায়। সম্ভবত এই কারনেই আমাদের মানষ গঠনে রাষ্ট্র আর পরিবারেরই প্রভাব বেশী এবং একছত্র।

আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে সাম্প্রতিক উপলব্ধি এমন যে,পরিবার ও রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠান গুলোই আমার/আমাদের চিন্তাকেও শাসন করছে এবং আমার/আমাদের চিন্তার উপর রীতিমতো আধিপত্য বিস্তার করছে। যার ফলে আমি/আমরা চিন্তার ক্ষেত্রে মুক্ত নই। অর্থাৎ মুক্ত চিন্তা করতে পারছিনা।

ব্যক্তিগতভাবে পরিবার ও রাষ্ট্রের সাথে আমার সম্পর্কের ভিত্তিটা আমি আধিপত্যের কিংবা আনুগত্যের পরিবর্তে সমঝোতার বা সম্মতির ভিত্তিতেই দেখতে/রাখতে চেয়েছিলাম বরাবরই। অনেকেই সেরকমটাই চায়। কিন্তু সেটা হয়ে উঠেনা। এটা অভিযোগ বা খেদ নয়, স্রেফ আমার ও আমার আশেপাশের বাস্তবতা। আসলে পরিবার কিংবা রাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা কিংবা সম্মতির সম্পর্ক গঠন এতো সহজ নয়! এক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে একটা উদাহরণ প্রযোজ্য হতে পারে।

লক্ষ্য করেছি, গত ১৩/১৪মে-২০২১ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ-উল-ফিতর্ এর দিন ফেইসবুকে ফিলিস্তিনি শিশু সহ বেসামরিক মানুষের উপর ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় ফোর্স কর্তৃক অমানবিক হামলা, নির্যাতন এবং এর বিপরীতে ফিলিস্তিন জঙ্গী (সম্ভ্যাব্য স্বাধীনতাকামী সংঘটন) হামাসের এর হামলার চিত্র এবং শিশুদেরকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চিত্র দেখি ও ভীষণভবে মর্মাহত হই। নির্যাতনের নতুন ও পুরনো ছবি এবং ভিডিও ক্লিপ গুলো দেখে মনটা হু হু করে কেঁদে উঠছিলো। একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া অনুভব করি। তখন সাথে সাথে কোন একটা পক্ষ অবলম্বন করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তথা ঘৃনা উদগিরন করতে পারলে হয়তো মনটা তাতখনিক ভাবে শান্ত হতো। কিন্তু সেটাতো আমার স্বভাব বিরুদ্ধ। তাই সেটা না করে এমন অমানবিক নির্যাতনের কারন অনুসন্ধানের চেষ্টায় ইন্টারনেট ঘেঁটে ও পুরনো বইপুস্তক ঘাটাঘাটি শুরু করেছিলাম। কেননা ফিলিস্তিন ও ইসরাইল সম্পর্কে ও তাদের সামাজিক, রাজনৈতিকও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। কতটুকু সীমিত, সেটা একটু বলি-

ফিলিস্তিন সম্পর্কে আমার বালক/কিশোর বয়সের জ্ঞান বা মানসপট হচ্ছে এমন যে, প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নেতা (PLO Boss) ইয়াসির আরাফাত একজন হিরো। ১৯৭৫-৭৮ সনের দিকে আমি যখন প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র ছিলাম, তখন আমার দাদা-বাবা সহ মুরব্বিদের মুখে ইসরাইল-ফিলিস্তিন এর বিরোধ নিয়ে বিচ্ছিন্ন গল্প/আলোচনা করতে শুনেছিলাম। তখন আমার সদ্য হজ্ব ব্রত পালন করা দাদাকে (Grand father) দেখেছি হজ্ব পালন করে ফিরে এসেই মাথায় সাদা-কালো রঙের ইয়াসির আরাফাত স্টাইলের স্কার্ফ (স্থানীয় ভাষায় ডুমা) পরতে আরম্ভ করেছেন। সেই স্কার্ফ বা ডুমা তিনি আমৃত্যুই পরেছেন। ১৯৯২ সনে তাঁর শেষ নিশ্বাস ত্যাগের সময় আমি যখন তাঁর মুখে পানির চামচ তুলে দিচ্ছিলাম, তখনোও তাঁর গলায়/মাথায় সেটা (ইয়াসির আরাফাত স্টাইলের স্কার্ফ) জড়ানো ছিল।

তাছাড়া সেই সময়কালে অর্থাৎ ১৯৭৫-৭৮ সময়গুলোতে ঈদেকে কেন্দ্র করে মফস্বল শহরের টং দোকানগুলোতে সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের ছবি সম্বলিত ভিউকার্ড এর পাশাপাশি ইয়াসির আরাফাত এর ছবিরও ভিউকার্ড সাজানো থাকতো দৃষ্টিনন্দনভাবে। ইয়াসির আরাফাত কে তখন হীরো হিসেবে উপস্থাপন করবারও একটা প্রবনতা ছিলো লক্ষ্য করবার মতই!



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top