মাতৃত্বের গল্প


প্রকাশিত:
২৯ ডিসেম্বর ২০২০ ২৩:৩৬

আপডেট:
৩ মার্চ ২০২১ ১৮:০৩

মাতৃত্ব শুধু মহান না, আমি মনে করি সবচেয়ে মহত্তম পেশা। দুঃখজনক যে এই বোধ মেয়েদের মধ্যে তৈয়ার হইয়া উঠতে দিতেছে না নারী, পুরুষ উভয় লিঙ্গ মিলেই। মেয়েরা পুরুষের সাথে সো কল্ড সমতা বজায় রাখার একটা নির্বোধ হেতু থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ হেলাফেলায় সারে।

জন্মের পর থেকে বুকের দুধ খাওয়ানো দিয়ে শুরু করা হতে ধরে একই সাথে শারীরিক আর মানসিক দুই জায়গাতেই সন্তানকে এই বর্তমান দুনিয়াবি'র রকম, সেইটার মুকাবলা এবং সেইক্ষেত্রে নিজের অবস্থান খুব ছোটবেলা থেকে পরিষ্কার বুঝতে পারবার মতো সামর্থ্যবান হবার পথে তারে হাতে ধরে ধরে আগাইয়া নিতে হবে এবং এইটা অনুল্লেখযোগ্য যে, মা চরিত্র যার তারেও নিজকে বুঝা এবং একজন সক্ষম লড়াকু মানসিকতার সাথে শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ'র জায়গাগুলা এড়াতে হবে বা যতটা পারা যায় পরস্পরবিরোধী আচরণের ভেতর দূরত্ব বাড়াতে হবে কারণ তা-না হইলে আগামী দুনিয়ায় জন্য একজন সক্ষম মানুষ বানানোর কাজে তার গাফিলতি সে এড়াইতে পারবে ঠিকই কিন্তু নিজ দায়িত্ব এড়াইয়াও যারা মাটি কাঁপাইয়া হাঁটে তাদেরকে মাটি সুযোগ দিলে আমি নাক ফুলাইব কোন অধিকারে?

প্রসঙ্গে বলি, বাচ্চারা মায়ের পেটে বড় হইবার প্রক্রিয়ার সময়েই মগজের উন্নতির বিষয়ে ভাবনা শুরু কইরা দেয়, প্রথম চিক্কুর দিয়াই সে যে এটেনশন চায় এইটা বুঝাইয়া দেয়, তো তারা প্রথমবেলা থেকেই শিখতে শুরু করে, এইজন্য রোদে ফালাইয়া সরিষার তেল মাখলেই হবে না, খুব ছোট থেকে- বুলি ফোটবার আগে থেকেই সন্তানের সাথে যেহেতু কানেক্ট করা যায় তাইলে হেলাফেলার সুযোগ নাই মায়েদের।

সামনের দুনিয়াটা যাদের হাতে দিয়া যাব তাদের ভিত আমাদেরই গড়তে হবে। একাডেমিক ছাইপাঁশ তাদের মগজের সিংহভাগ দখলের আগেই মানবের বেসিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আমরা মায়েরাই চেনাব আর এইরকম আরও বিশটা পয়েন্ট বলা যাবে যা মা ছাড়া আর কেউ ডেলিভারি দিতে পারবে না। একটা মা নয় মাস ধরে প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাইতে যাইতে টের পায় সমাজ তারে এ্যাজ এ্যা ক্যারিয়ার এর বেশি কিছু ভাবুক আর না ভাবুক তাই নিয়া তার মাথা খামচানোর কারণ নাই।

মাতৃত্বের মহানত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব মায়েদেরই। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার মানবতা মনে করে; কেবল হুইয়া, বইসা, খাইয়া, গড়াইয়া নয় মাস ধইরা বাচ্চা পেটে নেয়া এগোর কাজই। কিন্তু আজকের যুগ দেখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে মানুষ এইসব প্রেশার এড়াতে জন্মদান প্রক্রিয়াটারেই এড়াইতে চাইতেছে। খুবই ভালো সিদ্ধান্ত কিছুকালের জন্য আগামীর দুনিয়ার প্রতি। এত লোকের আসলেও কোনও কাম নাই। কিন্তু, এবং, খালি কিছু নির্বোধের দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সন্তানের জন্মদান এবং মাতৃত্বকে আর সাধারণ দুইচারটা সম্পর্কের সাথে তুলনা করা নিজেরই অপমান।

পারিপার্শ্বিকতার প্রেশার স্রেফ কুকারে ঢুকাইয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য চুলায় চড়াইয়া দেই বরং, এবং এই কুকারে সিটি বাজার সিস্টেমও রদ করা হবে। এইসব চাইরদিকের মেসো আর মাসীর দরদ উথলাইলে জমা কইরা রাখুক, অনেক সন্তান আছে যার মা হয়তো নাই, হয়তো পরিচয় রাখে নাই বাধ্য হইয়া, হয়তো সামর্থ্যও নাই- এইসব মাসীদের বলব সেইসব সন্তানের দায়িত্ব নেন তাতে মাতৃত্বের সুখ ঘোলে মিটতে পারে, আর যদি মায়ের মন লালন করেন তবে নিজকে যেকোনো উচ্চতর জায়গায় রাখতে, ভাবতে আপনারে কারো পারমিশন নেয়া লাগবে না।

ট্রাস্ট মি, অনেক মায়ের পক্ষেও কল্পনা করা সম্ভব না প্রতিটা আলাদা মা তার প্রতিটা সন্তানের জন্য কতখানি ছাড় দিতে পারে। আমাদের ঘেন্না তাদের প্রতি যারা এই মহান পেশারে প্রতি মাসে মেয়েদের পিরিয়ড হবার মতো স্বাভাবিক জায়গায় নিয়া দাঁড় করাইছে, তবে এও অদ্ভুত সংযোগ যে প্রতি মাসের এই হ্যাপা অনেক মেয়েরা খুব কষ্টের সাথে বয়ে বেড়ায় যাতে সে সন্তান জন্মদানের সামর্থ্য রাখে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top