সাগর–রুনির কী হয়েছিল, এতোবছর পর ভাবলে হতাশই লাগে


প্রকাশিত:
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২২:৫৬

আপডেট:
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:০৬

ছবিতে সাগর-রুনির সঙ্গে লেখক

সাগর ও রুনি দু’জনই আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলো। আমরা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিষয়ে রিপোর্ট করতাম। পারিবারিকভাবেও আমার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলো ওরা। দেশে-বিদেশে একসাথে ঘুরেছি, কাজ করেছি। ওদের বিয়ে, মেঘের জন্মদিন, আমাদের আড্ডা, পিকনিকে কতশত স্মৃতি। কিন্তু ওদের বন্ধু ছাড়াও আমি একজন সাংবাদিক।

সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন, তার শুরু থেকেই আমি দেখেছি যে সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার পরের সব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেই গেছি। তারা বারবারই বলেছেন নতুন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। ডিবি আর র‌্যাব একই কথা বলেছে। আমাদের কথা হলো, এতোদিনে এ ঘটনার একটা পরিণতি তো পাওয়া যাবে, জানা তো যাবে আসলে কী হয়েছিলো।

একটা কিছু তো বোঝা যাবে! খুব খুব হতাশ লাগে। আমরা প্রথম থেকেই দেখে আসছি এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা ধরণের তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমি নিহত হলে বা আমাকে কেউ মেরে ফেললে হত্যার ঘটনাটা কেনো হলো সেটা তো বের করতে হবে। সেটা যদি শুনতে খারাপও লাগে তবুও প্রকাশ করতে হবে। তাহলে কী এখন আমাদের মেঘের (সাগর ও রুনির ছেলে) বড় হওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে! নাকি সারাজীবন ধরে বার বার এভাবে তারিখ পেছাবে। বছরের এ সময়টা আমার প্রচণ্ড খারাপ লাগে। কারণ আমিও মেঘের মতো এক সন্তানের মা। ওই ঘটনার তিনদিন পরই আমার মেয়ে আলভিনার জন্ম হয়। ওর জন্মদিনটা কাছে এলেই আমার প্রিয় সতীর্থদের হারানোর বেদনায় বুক চেপে আসে। বারবার মনে পড়তে থাকে। মেঘের মুখটা দেখলে আমার বুক ফেটে যায়…, নিজেকে অপরাধী মনে হয় আমাদের ব্যর্থতার জন্য। নয় বছরেও মামলাটির কোনো অগ্রগতি হলো না। ওদের হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় ৭৮ বারের মতো পেছালো।

কেনো কোনো সুরাহা হলো না?

আমার মনে হয় এর পেছনে দু’টি কারণ

এক. আমাদের দেশে বড় কোনো ঘটনা ঘটলেই ব্যক্তিগত বিষয় টেনে এনে আসল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এখানেও তা-ই ঘটেছে। পাশাপাশি ঘটনাটিকে নানা দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে হত্যার আসল কারণটা হারিয়ে গেছে অনেক গভীরে।

দুই. সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যে আন্দোলন, যে চাপটা আসার কথা ছিলো সেটা নেই। কেউ কেউ তো বড় পদ পেয়ে এতো বড় ঘটনার বিচার চাইতে ভুলে গেছেন। এই তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে সরকারেরও একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন। আর কতদিন?

প্রিয় বন্ধু সাগর-রুনি তোদের সাথে তোলা এমন হাজারো ছবি আজ বেদনা। কখনোই এভাবে আড্ডা-আনন্দে তোদের পাব না। কি দুর্ভাগ্য আমাদের।

লেখক, প্রথম আলোর সিনিয়র প্রতিবেদক



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top