ঘড়ির গল্প থেকে কিছুটা আঁচ করা যায় কেমন ছিলেন ফরীদি


প্রকাশিত:
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২৩:৪২

আপডেট:
৩ মার্চ ২০২১ ১৭:৫৩

হ‌ুমায়ূন ফরীদির প্রয়াণের নয়টি বছর গত হলো। নশ্বর দেহের না থাকার মাঝেও তিনি রয়ে গেছেন স্বজন, বন্ধু ও ভক্তদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায়। বিশেষ করে কোনো আয়োজন নেই বটে! স্মরণ ও কীর্তির গল্প তো থেমে নেই।

এ দিন ফরীদিকে নিয়ে ফেইসবুকে মজার গল্প শেয়ার করলেন ‘ঘুড্ডি’-খ্যাত নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী।

‘ফরীদি আজ চলে গেল? না! ফরীদিরা হারায় না!’ উল্লেখ করেন জাকী লেখেন, ‘নায়ক, শিল্পী চিরসবুজ আলমগীরের বাসায় মাসিক পার্টি, আড্ডা। এক বিখ্যাত নায়িকার স্বামী অপ্রাসঙ্গিকভাবে আমার নাকের ডগায় সিঙ্গাপুর থেকে সদ্য ক্রয় করে আনা দামি একটা ঘড়ি নাচালেন। আমার সঙ্গে তার মশকারার সম্পর্ক নয়। আড়চোখে বাজচক্ষু ফরীদি আমার প্রতিক্রিয়া দেখেছে।”

এ পরের ঘটনাটি মজার। ‘আয়না বিবির পালা’ নির্মাতা বলেন, ‘পরের পার্টিতে ফরীদি অনেক আগেই হাজির। সেই নায়িকার স্বামী আসতেই তার হাত ধরে টানতে টানতে আমার কাছে নিয়ে এলো। আমার হাতে এই ঘড়িটার সোনালি চেইন লাগিয়ে দিল সমাদরে। হতবাক, তাকে আমার অলংকার শোভিত হাতটা দেখিয়ে প্রশ্ন করলো এই ঘড়িটার দাম কত জানেন? সুইডেন থেকে আনা!”

লেখার সঙ্গে সেই সোনালি চেইনের ঘড়িটির ছবি যোগ করেন জাকী। ছিল শিশুতোষ ছবি ‘গল্পদাদুর গল্পকথায়’ থেকে ফরীদির লুক।

ঢাকার নারিন্দায় ১৯৫২ সালের ২৯ মে জন্ম ফরীদির। ১৯৭০ সালে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়ন বিভাগে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্থগিত হয়ে যায় পড়াশোনা। স্বাধীনতার পর অর্থনীতি বিষয়ে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক পাস করেন।

হ‌ুমায়ূন ফরীদির অভিনয়জীবনের শুরু ছাত্রজীবনে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। প্রথম মঞ্চনাটক কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটকে ১৯৬৪ সালে। মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা দেন স্কুল জীবনে, নাম ‘ভূত’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, ফণীমনসা, শকুন্তলা, কীর্তনখোলা, কেরামত মঙ্গল প্রভৃতি।

টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে সাত আসমানের সিঁড়ি, একদিন হঠাৎ, চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ, অযাত্রা, পাথর সময়, দুই ভাই, শীতের পাখি, সংশপ্তক, কোথাও কেউ নেই, নীল আকাশের সন্ধানে, দূরবীন দিয়ে দেখুন, ভাঙনের শব্দ শুনি, বকুলপুর কতদূর, মহুয়ার মন, সমুদ্রে গাঙচিল,‌ তিনি একজন, চন্দ্রগ্রস্ত, কাছের মানুষ, মোহনা, বিষকাঁটা, শৃঙ্খল, ভবের হাট প্রভৃতি।

হ‌ুমায়ূন ফরীদির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ১৯৮৫ সালে মুক্তি পাওয়া শেখ নিয়ামত আলীর ‘দহন’। প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’। ভণ্ড, ব্যাচেলর, জয়যাত্রা, অপহরণ, শ্যামলছায়া, রাক্ষস, একাত্তরের যীশু, মায়ের অধিকার, বিশ্বপ্রেমিক ও পালাবি কোথায়সহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তিনি ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৪ সালে।

অভিনয়ের পাশাপাশি কিছু টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণ করেছেন তিনি।

হ‌ুমায়ূন ফরীদি দুবার বিয়ে করেন। ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন প্রথমে। সেই ঘরে রয়েছে তার একমাত্র সন্তান দেবযানি। পরে তিনি ঘর বাঁধেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে। কিন্তু ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

২০১২ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি ষাট বছর বয়সে মারা যান হ‌ুমায়ূন ফরীদি।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top