অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায়কে আমলে নিতে হবে


প্রকাশিত:
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১২:৪৬

আপডেট:
৫ জুলাই ২০২২ ০২:৪৮

সামাজিক ন্যায়বিচারের আলোকে করোনাকালে ধনী–দরিদ্রের বৈষম্য, প্রণোদনা বরাদ্দের নানা দিক, টিকাবৈষম্যসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক বিনায়ক সেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পার্থ শঙ্কর সাহা।

প্রশ্ন: বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব এক অতিমারির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এবারের সামাজিক ন্যায়বিচার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার’। করোনাকালে বৈশ্বিক নানা তৎপরতায় সামাজিক ন্যায়বিচার কতটুকু পালিত হয়েছে। টিকাবৈষম্য এখনো প্রবল। বৈষম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

বিনায়ক সেন: অতিমারি বৈষম্যের নতুন চেহারা উন্মোচন করেছে। এখানে প্রথম কথা হলো, একজন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে নিয়োজিত হোন বা না হোন, প্রাথমিক চাহিদা মেটানোর অধিকার তাঁর আছে। কেউ যদি অনানুষ্ঠানিকভাবে নিয়োজিত হন, তাঁর ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। আমাদের শহুরে কর্মশক্তির ৭০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে। তাঁদের আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে আসতে পারলে ভালো। কিন্তু তা না পারলেও রাষ্ট্রের কর্তব্য তাঁদের মৌলিক অর্থনৈতিক অধিকার দেওয়া। দ্বিতীয় কথা হলো, মানুষকে শুধু শ্রমিক হিসেবে দেখব, নাকি সম্মানিত মানবসত্তা হিসেবে দেখব? এটা বড় প্রশ্ন।

প্রশ্ন: করোনাকালে আমাদের দেশের লাখো মানুষ কাজ হারিয়েছেন। নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন অনেকে। করোনার ক্ষতি পোষাতে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনাসহ নানা তৎপরতায় কাজের সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা কতটুকু আছে?

বিনায়ক সেন: এখানে সামাজিক ন্যায় দর্শনের উদারবাদী ও সমতাবাদী ধারার সাথে অর্থনৈতিক হিতবাদের দ্বন্দ্বের কথা এসে যায়। সংকটের এই সময়ে এখানে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে মূলত শিল্পমালিকদের। যাঁদের ওপর প্রচুর মানুষ নির্ভর করে। এভাবে প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। একে সাধুবাদ জানালেও উদারবাদীরা যেমন দার্শনিক জন রাউলসের ম্যাক্সিমিন নীতি এবং সমতাবাদী ধারার প্রবক্তারা বলবেন, মাঝারি ও ছোট শিল্পের জন্য প্রণোদনার পরিমাণ সবচেয়ে কম। বড় শিল্পের জন্য প্রতিশ্রুত সবকিছুই ছাড় হয়েছে। আবার, সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য যথাযথ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ এখানে বলা হয়েছে, নতুন দরিদ্রদের তালিকা নেই। কিন্তু দারিদ্র্য জরিপের উপাত্ত ছিল। সেই উপাত্ত যথাযথ ব্যবহার হয়নি। আর তা যদি বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসনের মাধ্যমে সবার সঙ্গে আলোচনা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো, তাহলে এটা সফল হতো। শহর অঞ্চলই তো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে। সুতরাং এ দুই জায়গায় এলাকাভিত্তিক আলোচনা করে দরিদ্র পরিবারকে খুঁজে বের করার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যদি নেওয়া হতো, তাহলে যথাসময়ে নতুন দরিদ্রদের কাছেও পৌঁছানো যেত। এমনকি আরও বেশি সম্পদ বরাদ্দ করা যেত। এ নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির দরকার ছিল। এখন অমিক্রনে সংক্রমণ বেশি, কিন্তু মৃত্যুহার কম। কিন্তু যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের ৮০ শতাংশই টিকা পাননি। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায় দাবি করে, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার কাছে টিকা পৌঁছানো এবং টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করা।

প্রশ্ন: ‘যোগ্যতমদের টিকে থাকার’ যে ভাবনা, এর ঠিক বিপরীতে সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণার উদ্ভব। এ বিষয়ে কিছু বলুন।

বিনায়ক সেন: অমর্ত্য সেন একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতের ভিন্নতায় সামাজিক ন্যায়বিচারের তারতম্য ঘটে। তাঁর উদাহরণ থেকেই বলি। আসগর, করিম ও শ্যামল তিনটি ছেলের কথা আমরা ভাবতে পারি। তাদের মধ্যে একটি বাঁশি কে পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসগর খুব ভালো বাঁশি বাজায়। এটা শ্যামল ও করিম উভয়েই জানে। যেহেতু এটি রাষ্ট্র থেকে দেওয়া হচ্ছে, তাই বাঁশিটা পাওয়ার অধিকার তারই। আবার করিমের জন্ম খুব দরিদ্র পরিবারে। সে কখনো এমন সুন্দর বাঁশি দেখেনি। এমন একটি বাঁশি পাওয়ার আকুতি তার মধ্যে আছে। তারও দাবি তাকেই এটা দেওয়া হোক। আর এদের মধ্যে শ্যামলের দাবি, বাঁশি বানানো তার পিতৃপুরুষের কাজ, সে এই বাঁশিটি বানিয়েছে। তার থেকেই রাষ্ট্র নিয়েছে, এখন দিতে চাইছে। তাই এটি তারই প্রাপ্য। এখন কার বাঁশি পাওয়া উচিত, সামাজিক ন্যায়ের দৃষ্টিতে তা দেখতে চাইলে একেক দৃষ্টিকোণ থেকে একেক ধরনের উত্তর পাব। যিনি দক্ষতাকে মূল ভিত্তি বলে মনে করেন, তিনি আসগরকে বাঁশি দেওয়ার পক্ষে থাকবেন। কিন্তু যাঁরা হিতবাদী দর্শনের লোক, যাঁদের মধ্যে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরাও পড়েন, তাঁরা বা জন স্টুয়ার্ট মিলের মতো উদারনৈতিক বা লিবারেল দর্শনের প্রবক্তারা বলবেন, যেহেতু করিমের বঞ্চনার বোধ প্রবল বা তার বাঁশিই নেই, তাকেই এটা দেওয়া সামাজিকভাবে ন্যায়সংগত। আবার মার্ক্সবাদীরা বলবেন, শ্যামলের বানানো জিনিস তাকে না দিয়ে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা শ্যামলেরই প্রাপ্য।

প্রশ্ন: সে ক্ষেত্রে বণ্টনের নীতিমালা কী হতে পারে?

বিনায়ক সেন: এ উদাহরণ থেকে আমরা বুঝতে পারছি সামাজিক ন্যায়ের কোনো একক সংজ্ঞা নেই। যেটা দিয়ে সব রকমের বণ্টন নীতিমালা গ্রহণ করতে পারি। একেক সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের একেক রকমের ন্যায় দর্শনের আশ্রয় নিতে হয়। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, অন্য নাগরিক সবার সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধরা যাক কোথাও বাঁধ তৈরি হবে বা বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে। সামাজিক ন্যায় দাবি করে, সেটা যেন একটি জনমতামতের মধ্যে দিয়ে যায়। জনগণের মধ্যে পরিবার, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম থাকতে পারে। তাদের সবার সঙ্গে আলাপ করা দরকার।

প্রশ্ন: কোনো অর্থনৈতিক তত্ত্ব কি সামাজিক ন্যায়বিচারের বাইরে আছে?

বিনায়ক সেন: সময়ের বিবর্তনে অর্থশাস্ত্র সামাজিক ন্যায়ের প্রতি আরও সংবেদনশীল হচ্ছে বা হতে হচ্ছে। কারণ, সামাজিক ন্যায়ের অনুপস্থিতিতে যেমন অসাম্য, পরিবেশের বিপন্নতা, যুদ্ধাবস্থা, সমাজের ভেতরে নানা ধরনের সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর সমস্যা, নারী-পুরুষের সমতার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এগুলো রোধ করতে গেলে প্রথাগত অর্থশাস্ত্রের ধারণাগুলো দিয়ে যথাযথ অবস্থান নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন অর্থশাস্ত্রের বাইরে গিয়ে সামাজিক ন্যায়শাস্ত্রের আশ্রয় নিতে হয়।

২০০৭-২০০৮ সালের কথা বলতে পারি। তখন পাশ্চাত্য দুনিয়া গভীর আর্থিক সংকটে পড়ল। কাঠামোগত সংস্কার উন্নয়নশীল দেশের ঋণের সমস্যা ছিল কিন্তু ২০০৭-২০০৮–এ সংকট হলো উন্নত পুঁজিবাদী দেশে। রাজনৈতিক হানাহানি, অর্থনীতির সংকটের পাশাপাশি পরিবেশের সংকট তথা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এল। ১৯৯০–এর দশকের এই নিও–লিবারেল গভর্নমেন্টালিটির ব্যর্থতার পর ২০০০–এর দশকের শেষ দিকে জনতুষ্টির মতাদর্শ জাগ্রত হলো বিশ্বজুড়েই। এর অনিবার্য ফলশ্রুতিতে ট্রাম্প, ব্রাজিলে বলসোনারো, ভারতে নরেন্দ্র মোদির মতো শাসকের অভ্যুদয়। অতিজাতীয়বাদী আত্মপরিচয়ের রাজনীতির বাহক তারা। ইউরোপও এর চাপ থেকে বাদ থাকল না। আর্থিক সংকটের কারণে অভিবাসনের জোয়ার আর নানা দেশে এ অভিবাসন রুখতে জনতুষ্টির রাজনীতির উত্থান। আর এসবের ফলে সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন আর পেছনের সারিতে থাকল না।

প্রশ্ন: এখন ‘প্রবৃদ্ধি’ বহুল চর্চিত একটি বিষয়। বলা হয়, কেকের আকার বড় কর, যাতে সব মানুষের তার ভাগ পাওয়ার সুযোগ থাকে। এভাবে কি সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। অভিজ্ঞতা কী বলে?

বিনায়ক সেন: আপাতদৃষ্টে মনে হতে পারে, প্রবৃদ্ধির এ ভাবনার সঙ্গে সামাজিক ন্যায়ের সম্পর্ক নেই। কিন্তু এমন কোনো অর্থনীতির মতাদর্শ নেই, যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সামাজিক ন্যায়ের সম্পর্ক নেই। প্রবৃদ্ধি হলে জনকল্যাণ নিশ্চিত হবে, এটার প্রচ্ছন্ন অনুমান হচ্ছে হিতবাদী দর্শন। এর মূল বক্তব্য ছিল লাভ–ক্ষতির হিসাব করো। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ। এর মূল প্রবক্তা জেরেমি বেনথাম। তিনি অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকের আইনজীবী, দার্শনিক। তাঁর প্রভাব এসে পড়ে জেমস মিলের ওপরে। তিনি জন স্টুয়ার্ট মিলের বাবা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নীতি নির্ধারণে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। আপাতদৃষ্টে এ সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখকে ভালো বলা যায়। কিন্তু এটাকেই সর্বোত্তম নীতি বলা যায় না।

মাইকেল স্যান্ডেল একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়েছেন। ১৮৮৪ সালে একটি জাহাজডুবির ঘটনার পর তিনজন নাবিক ও একজন কেবিন বয় একটি বোটে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে খাবারের অভাবে তাদের মরণদশা হয়। তখন তাঁরা কেবিন বয়টিকে খুন করে তার মাংস খেয়ে জীবন বাঁচান। এ নিয়ে পরে যুক্তরাজ্যে মামলা হলো। প্রশ্ন ওঠে, যাঁরা খুন করেছিলেন তাঁরা কি দোষী ছিলেন? হিতবাদী দর্শনের দিক থেকে দেখলে তাঁদের দোষী বলা যাবে না। একজনকে মেরে তিনজনের জীবন বেঁচেছে, নইলে খাবারের অভাবে সবারই মৃত্যু ঘটত। তারপরও মনুষ্যত্ব বলে একটি বিষয় আছে। নৈতিকতার অলঙ্ঘনীয় কিছু নিয়ম আছে, যাকে দার্শনিক কান্ট ‘ক্যাটাগরিকাল ইমপারেটিভ’ বলেছেন। অর্থনৈতিক নীতি নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায়কে আগাগোড়া বিবেচনায় নিতে হবে।

হিতবাদী তত্ত্বের ক্ষেত্রে বলা যায়, প্রবৃদ্ধি বৈষম্যমূলক হতে পারে। অন্যরা সমৃদ্ধি না–ও পেতে পারে। দ্বিতীয় কথা হলো, প্রবৃদ্ধি নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ না থাকলে যথাযথ নীতিমালা সম্ভব হয় না। সেটা উপনিবেশের সময় হয়নি, এখনো হয় না। অনেক অবকাঠামো নির্মাণের সময় পরিবেশের বিষয়টি মাথায় নেওয়া হচ্ছে না। যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁদের যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের ঘটনার কথা আমাদের মনে পড়বে।

প্রশ্ন: মেরিটোক্রেসি বা মেধাতন্ত্রের প্রসারের পক্ষে অনেক কথা বলা হচ্ছে। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

বিনায়ক সেন: আমাদের দেশে আমলাতন্ত্রের প্রভাবের বাইরে জ্ঞানের প্রভাবের কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। আমরা মূলত মধ্যবিত্তকে ভেবেই জ্ঞানভিত্তিক সমাজের বিনির্মাণের কথা বলি। কথাটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে একটা ফুটনোট আছে। সেটা হলো, আমি জ্ঞানী হই বা না হই, দেশের বা বিশ্ব নাগরিক হওয়া সাপেক্ষে আমার কতকগুলো মৌলিক পণ্য প্রয়োজন আছে। মৌলিক অধিকার আছে। সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণার মতো কিছু সামাজিক দলিলে এ অধিকার ইতিমধ্যেই বলা আছে। মেধাভিত্তিক সমাজের কথা বলে শুধু অর্থনৈতিক নীতিমালা নিতে চাইলে তাতে সামাজিক ন্যায় ক্ষুণ্ন হয়। মেধার ইঁদুরদৌড়ে যাঁরা পেরে উঠলেন না, তাঁদের কী হবে। হাতের পাঁচটা আঙুল সমান নয়। সবাই পিএইচডি করতে পারবে না। সবাই স্কুলও শেষ করার সুযোগ পান না। তাঁরা সাধারণ কর্মী হিসেবে যেমন চৌকিদার, নার্স, শ্রমিক, গৃহকর্মী—সমাজের বিভিন্ন অংশে কর্মরত। প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি তো তাঁরাই। করোনার সময় সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নটা বড় আকারে উঠেছে, এসব মানুষের প্রাথমিক চাহিদা মেটাব, না সমাজের উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তকে অগ্রাধিকার দেব? মেধাতন্ত্রের অত্যাচার নামে একটি কথা এখন
চালু আছে।

প্রশ্ন: স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হলো। স্বাধীনতা লাভের পরপরই দেশ রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে শুরু করে। নানা প্রতিকূলতার পরও বাংলাদেশ নানা সামাজিক সূচকের উন্নয়নে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু সমস্যা এখনো প্রবল। সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতে দেশ কোথায় দাঁড়িয়ে?

বিনায়ক সেন: স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি। কিন্তু তারপরও নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ন্যায় দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। এখনো সংবিধানের অনেক মৌলিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। একটু আগে মেধাতন্ত্রের অত্যাচারের কথা বলেছিলাম। আমাদের সংবিধানে এর বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলা হয়েছে সেই ৫০ বছর আগেই। সংবিধানের ১৪, ১৫ থেকে ১৮ ও ১৯ অনুচ্ছেদে সামাজিক ন্যায় দর্শনের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে। সেগুলোর অনেক কিছুরই বাস্তবায়ন বাকি। সবার জন্য সমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার সুযোগ না দিলে মানুষের জীবন পাথরের মতো শুষ্ক হয়ে যায়। সূত্র: প্রথমআলো



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top