নির্বাচন কমিশনের আচরণ নিয়ে সবাই অবগত


প্রকাশিত:
১৫ জুন ২০২২ ১২:৪৪

আপডেট:
৫ জুলাই ২০২২ ০৩:৫২

নতুন গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রথম বড় ভোট আয়োজন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আগামী বছর জাতীয় নির্বাচন। সার্বিক বিবেচনায় কুমিল্লা সিটি নির্বাচন কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা সর্বত্র।

ভোটের সার্বিক বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন নির্বাচন বিশ্লেষক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) -এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা জনমনে চরমে। এমন সময়ে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। কিন্তু সরকার চায় কি না সেটাই দেখার বিষয়

প্রশ্ন: জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। রাজনৈতিক দলগুলোও সরব। এমন সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ কী?

ড. বদিউল আলম মজুমদার: জাতীয় নির্বাচনের আগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। সরকার, বিরোধীপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এমন একটি নির্বাচন থেকে অনেক কিছু জানার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আগের নির্বাচনগুলো থেকে এ নির্বাচন আয়োজনের বিশেষ কোনো পরিবর্তন আছে কি না?

নির্বাচন কমিশনের ওপর যেমন মানুষের আস্থা নেই, তেমনি নির্বাচন নিয়ে সরকারের ওপরেও বিশ্বাস নেই। নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা জনমনে চরমে। এমন সময়ে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। কিন্তু সরকার চায় কি না সেটাই দেখার বিষয়। নির্বাচন ব্যবস্থায় পরম্পরায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের পথ সহজ আছে বলেও মনে করি না। সরকার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কী ভূমিকা রাখছে তা প্রমাণিত হয়েছে এরই মধ্যে।

সরকারদলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও জাতীয় সংসদ সদস্য এই নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিলেন। তিনি আইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত। তিনিই আইন লঙ্ঘন করলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না, এটি আইন। অথচ তিনি আইন ভাঙলেন। এই অপরাধে তার শাস্তি হওয়ার কথা। যে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালালেন, তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা। তার কিছুই করলেন না নির্বাচন কমিশন। কমিশন তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন। অপরাগতা প্রকাশ করলেন। তাহলে নির্বাচনে কী ফল আসবে, তা অনেকটাই প্রমাণিত।

প্রশ্ন: নতুন নির্বাচন কমিশন। এই কমিশনের জন্য প্রথম নির্বাচন। চ্যালেঞ্জ তো তাদের জন্যও।

ড. বদিউল আলম মজুমদার: নির্বাচন কমিশনের আচরণ কী হতে পারে সে ব্যাপারে সবাই অবগত। তবুও নতুন কমিশনের কাছে মানুষের নতুন বা ভিন্নমাত্রার চাওয়া থাকে। এ কারণে নতুন এই কমিশনের জন্যও চ্যালেঞ্জটা বড়। কিন্তু কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নতুন এই কমিশন যেভাবে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে, তাতে মানুষের হতাশা বাড়িয়েছে।

একটি নির্বাচন কমিশনের অফুরন্ত ক্ষমতা। নির্বাহী আদেশে অনেক কিছুই করতে পারে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার তাগিদে পরিপত্রের পরিবর্তন করার ক্ষমতাও রাখে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করার কথা। কিন্তু তা কি আমরা দেখতে পাচ্ছি। সরকারদলের হয়ে প্রশাসন যেভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে আসছে তার দায় কমিশনেরই।

প্রশ্ন: বিরোধীপক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টির কথা। প্রধান বিরোধী শক্তি নির্বাচনবিমুখ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার: বিরোধীশক্তি কেন নির্বাচনবিমুখ, তার প্রক্ষাপট তো দেখতে হবে। বিরোধীশক্তিকে মাঠ ছাড়া করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে এবং বছরের পর বছর ধরে। নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করেনি বলেই বিরোধীশক্তির ওপর জুলুম করা হয়েছে। সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন মিলে একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। এভাবে সভ্য সমাজে কেউ মাঠে টিকতে পারে না।

প্রশ্ন: ভোট, নির্বাচন নিয়ে নাগরিকরাও নিষ্ক্রিয়। দায়িত্ব নাগরিক সমাজেরও তো আছে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার: গত এক যুগ ধরে নির্বাচন নিয়ে মানুষকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে, তাতে নিষ্ক্রিয় থাকাই মানুষ শ্রেয় মনে করেন। ভোটকেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়, অপদস্ত করা হয়, নিহত-আহত হতে হয়, রাতেই ভোট হয়ে যায়, মৃত মানুষের ভোট হয়। এসব দেখে সাধারণ মানুষ সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলে। তবে এই পরিস্থিতির জন্য দায় সবার।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top