হারুকি মুরাকামির সাক্ষাৎকার


প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী ২০২১ ২২:১৩

আপডেট:
১৩ জানুয়ারী ২০২১ ২২:১৫

১২ জানুয়ারি জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির জন্মদিন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে তিনি জাপানের কিয়োটোর ফুশিমি-কু শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মদিন উপলক্ষে দ্য নিউ ইয়োর্কার পত্রিকায় প্রকাশিত দেবোরাহ ত্রাইসম্যানের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ প্রকাশ করা হলো।

২০১৭ সালে প্রকাশিত আপনার উপন্যাস ‘কিলিং কমেনডেটর’ দিয়ে শুরু করতে চাই। বইটি স্ত্রী ছেড়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে নিয়ে। তিনি এক বৃদ্ধ চিত্রকরের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেই বাড়িতে তিনি বসবাস শুরুর পর বহু অদ্ভুত জিনিস ঘটতে শুরু করে। এর কোনো কোনোটি মাটির একটি গর্ত থেকে শুরু হয়—সেটি এক ধরনের শূন্য কুয়া। উপন্যাসটির জন্য এই প্লটে কীভাবে পৌঁছালেন ভেবে অবাক হই।

হারুকি মুরাকামি : এটা একটা বড় বই—লিখতে আমার দেড় বছর বা তারও কিছু বেশি সময় লেগেছে। তবে এর শুরু হয়েছে কেবল এক বা দুইটি প্যারাগ্রাফ থেকে। আমি ওই প্যারাগ্রাফগুলো লিখে আমার ডেস্কের ড্রয়ারে ফেলে রাখি, পরে ভুলে যাই। এরপর তিন কিংবা ছয় মাস পরে আমার মনে হয় ওই এক বা দুইটি প্যারাগ্রাফকে তো উপন্যাসে বদলে দেওয়া যায়। আমি লিখতে শুরু করি। কোনো পরিকল্পনা ছিলো না, কোনো সময়সূচি ছিলো না, কোনো গল্প ছিলো না; আমি শুধু সেই প্যারাগ্রাফগুলো থেকে লেখা শুরু করি এবং লেখাটা চালিয়ে যেতে থাকি। গল্পই আমাকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। আপনার যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে—শুরু করার সময়েই যদি আপনি শেষটা জানেন—তখন উপন্যাস লেখায় আপনি কোনো আনন্দ পাবেন না। আপনি জেনে থাকবেন, একজন চিত্রকর পেইন্টিং করার আগে স্কেচ আঁকতে পারেন কিন্তু আমার তা ছিলো না। সাদা একটা ক্যানভাস ছিলো, এই পেইন্টব্রাশটা ছিলো আর আমি কেবল ছবিটি এঁকেছি।

উপন্যাসটিতে একটা চরিত্র কিংবা একটা ধারণা ছিলো যা মোজার্ট অপেরা ‘ডন জিওভান্নি’ থেকে কমেনডেটর’র রুপ নেয়। এই ধারণা বা এই চরিত্র বইটির কেন্দ্রে কেন?

মুরাকামি : সাধারণত আমি একটি টাইটেল থেকে বই শুরু করি। এই ক্ষেত্রে আমার টাইটেল ছিলো ‘কিলিং কমেনডেটর’ আর আমার কাছে ছিলো বইটির প্রথম প্যারাগ্রাফ। আর আমি অবাক হয়ে ভেবেছিলাম, তাদের নিয়ে কী লিখতে পারবো! জাপানে ‘কমেনডেটর’র মতো কোনো কিছু নেই। কিন্তু আমি টাইটেলের অদ্ভুত বিষয়টি আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম।

অপেরা ‘ডন জিওভান্নি’ কি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

মুরাকামি : চরিত্রটি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত আমি কোনো মডেল ব্যবহার করি না। একবারই কেবল একটি চরিত্রের জন্য মডেল ব্যবহার করেছিলাম—সে খারাপ মানুষ ছিলো, সে এমন একজন যাকে আমি খুব বেশি পছন্দ করতে পারিনি। তারপরও তাকে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেবল একবার। আমার বইয়ের অন্যসব চরিত্র আমি আমার হাতের আঁচড় দিয়ে শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। একবার একটি চরিত্র তৈরি করতে পারলে সেই চরিত্র নিজেই নড়াচড়া করতে শুরু করে, এরপর আমি যেটা করি, তা হলো তাকে চারপাশে চলতে ফিরতে, কথা বলতে, বিভিন্ন কাজ করতে অনুপ্রাণিত করি। আমি একজন লেখক এজন্য আমি লিখি। কিন্তু একই সময়ে উৎসাহব্যঞ্জক এবং ইন্টারেস্টিং বই পড়লেও আমি অনুভব করতে পারি। সে কারণে লিখেও আমি আনন্দ পাই।

বইটির মূল চরিত্র অপেরা বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীত শোনে, ব্যাপারটি আপনার উপন্যাস পড়তে গিয়ে জেনেছি। আপনার চরিত্রগুলো প্রায়ই নির্দিষ্ট ব্যান্ড কিংবা বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীত শুনে থাকে। এগুলো কি আপনার কাজে সহায়তা করে, এরা কারা?

মুরাকামি : আমি লেখার সময়ে সঙ্গীত শুনি। ফলে মিউজিক খুব স্বাভাবিকভাবেই আমার লেখাতে আসে। সেটা কোন ধরণের সঙ্গীত তা নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবি না। তবে এই মিউজিক আমার কাছে খাবারের মতো। এটা আমাকে লেখার শক্তি দেয়। সে কারণে আমি প্রায়ই মিউজিকের কথা লিখি। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আমি মিউজিক নিয়ে লিখতে ভালোবাসি। এটা আমার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

মিউজিক আপনাকে স্বাস্থ্যবান রাখে?

মুরাকামি : হ্যাঁ, খুব বেশি। মিউজিক আর বিড়াল। এগুলো আমাকে অনেক আলোড়িত করে।

আপনার কতোগুলো বিড়াল আছে?

মুরাকামি : একটাও নেই। প্রতিদিন সকালে আমি বাড়ির চারপাশে হাঁটতে যাই, নিয়মিতভাবে তিন-চারটি বিড়াল দেখি—তারা আমার বন্ধু। আমি থেমে তাদের হ্যালো বলি, তারা কাছে আসে। আমরা পরস্পরকে খুব ভালোভাবে চিনি। 



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top