উগান্ডায় স্বর্ণখনি পেয়েছে চীনা কোম্পানি, ২০ বছরের চুক্তি


প্রকাশিত:
৫ জুলাই ২০২২ ০১:১৯

আপডেট:
১৭ আগস্ট ২০২২ ২৩:১৯

দারিদ্র্যপীড়িত উগান্ডার একটি নতুন স্বর্ণখনির সন্ধান পাওয়া গেছে। খনিটিতে যে পরিমাণ স্বর্ণের মজুত রয়েছে, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী সেই স্বর্ণের মূল্য ১২ ট্রিলিয়ন (১২ লাখ কোটি) ডলার।

চীনের খনি অনুসন্ধান ও আকরিক স্বর্ণ পরিশোধনকারী কোম্পানি ওয়াগাগাই উগান্ডার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুসিয়ায় এই স্বর্ণখনির সন্ধান পেয়েছে বলে রোববার এক বিৃবতিতে জানিয়েছে উগান্ডার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খনিটিতে অন্তত ৩ কোটি ১০ লাখ টন আকরিক স্বর্ণের মজুত রয়েছে।

এই পরিমাণ আকরিক স্বর্ণ পরিশোধন করা হলে অন্তত ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫৮ টন খাঁটি স্বর্ণ পাওয়া সম্ভব, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১২ লাখ কোটি ডলার।

চলতি বছর মার্চে উগান্ডায় স্বর্ণ খনি অনুসন্ধানের অনুমোদন পায় চীনা কোম্পানি ওয়াগাগাই। অনুসন্ধান কার্য শুরু করার মাত্র চার মাসের মাথায় উগান্ডায় নতুন খনির সন্ধান পেল কোম্পাটি।

উগান্ডার সরকারি বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার জানিয়েছেন, বুসিয়ার নতুন খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলনে ওয়াগাগাইকে ইতোমধ্যে আগামী ২০ বছর মেয়াদি অনুমোদনপত্র (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। সামনের বছর ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হবে এই খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলন।

বর্তমানে খনি সংলগ্ন এলাকায় স্বর্ণ পরিশোধন কারখানা নির্মাণ করছে ওয়াগাগাই। এ খাতে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করেছে ২০ কোটি ডলার। কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলেছেন, উৎপাদন শুরু হলে প্রতি বছর এই খনি থেকে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টন অপরিশোধিত স্বর্ণ এই খনি থেকে উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

তাছাড়া উৎপাদন শুরু হলে এই খনিকে ঘিরে অন্তত ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও জানিয়েছেন ওয়াগাগাইয়ের কর্মকর্তারা।

বিশ্বের যেসব দেশের রাজনীতি চরমমাত্রায় অস্থিতিশীল, সেসবের মধ্যে উগান্ডা অন্যতম। দশকের পর দশক জুড়ে চলা গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত সংঘাত দেশটির অর্ধেকেরও বেশ মানুষকে ঠেলে দিয়েছে চরম দারিদ্র্যের দিকে। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৪১ শতাংশের দৈনিক আয় মাত্র ১৭৭ টাকা ৫৩ পয়সা (১দশমিক ৯০ ডলার)।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট ইকোনমি এ বিষয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বৈশ্বিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কাউন্সিলের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে মিডল ইস্ট ইকোনমিকে বলেন, কাউন্সিল সাধারণত সংবাদমাধ্যমের স্বর্ণ অনুসন্ধান বিষয়ক কোনো প্রতিবেদনে মন্তব্য করে না। তবে এই ক্ষেত্রে আমরা আশা করব, স্বর্ণ বিক্রির মাধ্যেমে যে অর্থ আসবে— তা যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তে উগান্ডার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।

বিশ্বের অন্যতম দারিদ্র্যপীড়িত দেশ উগান্ডা একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা স্বর্ণ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে একটি। ২০২১ সালে দেশটির ৩৪৭ কোটি ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছিল; আর সেই স্বর্ণের একমাত্র ক্রেতা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top