নাফিসা রিসপার ৫ কবিতা


প্রকাশিত:
১৪ জানুয়ারী ২০২২ ০৯:৩৭

আপডেট:
২১ জানুয়ারী ২০২২ ১৩:৫৮

বৃষ্টিকে আমি বুঝতে পারিনা

একমাত্র বৃষ্টিকেই আমার মানুষের মতো মনে হয়
একই সাথে যেন দ্বৈত চরিত্র
যেন,ইচ্ছে করলেই আপনাকে হাসাতে পারে কিংবা পারে কাঁদাতে।
এই ধরুন আমার কথাই বলি,
বৃষ্টি আসলেই আমার তার কথা মনে পড়ে
হাতছানি দেয় অবারিত সবুজ ভালোবাসা
নতুন জন্মের স্বপ্ন দেখি।
আবার সেই বৃষ্টিই আমার চোখের সামনে খুলে দেয় মৃত সব মানুষের কবর
ভিজতে থাকে সাদা কাফনে মোড়ানো শরীর
ডুবতে ডুবতে তারা উঠে বসে তাও যখন শেষ রক্ষা হয় না তখন দাঁড়িয়ে যায়
তারপর প্রত্যকে বের হয়ে আসে
নিজের বসবাসের অযোগ্য গর্ত থেকে
রাস্তায় সারি বেঁধে আপাদমস্তক সাদা কাফনে জড়িয়ে মৌনমিছিল করে, ভিজতে থাকে, সব যেন আমার চোখের সামনেই ঘটে।
তারা কি চায় কি বলে আমি বুঝতে পারিনা! তখন আমার ভীষণ কষ্ট হয় নিজেকে মৃত মনে হয়।

 

দুই শালিকে বীথির কথা মনে পড়ে

বীথি বলতো,সকালবেলা তোদের বাসায় আসতে গিয়া এক শালিক দেখে আমার মন খারাপ হয়, তারপর বাসার কাছাকাছি গিয়া দেখি দুই শালিক! আমি আশ্চর্য হয়ে বীথিকে জিগাই
এক বা দুই শালিক দেখলে কি হয়?
বিথী বলে,দুইটায় যাত্রা শুভ।একটায় মন খারাপ।
এরপর বহু মহাকাল পরে বীথির বাসার দিকে গেলে
আমি বারবার এক শালিকই দেখি।
চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসা, সুনশান নীরব রাস্তা, ঝাঁলমুড়িতেও আমি আমার পাশে বীথিকে দেখতে পাই
দুই শালিক দেখি নাই আর।

 

মাঝি

আমারে নিবা মাঝি, নিবা তোমার নায়?
উজানে ভাসাবে তরী
ভাটিতে ঠেকবে গিয়া কোন এক অচিন গায়।
সেই গাঁয়েতে বাঁধবো মাঝি
তোমার আমার ঘর।
সেই ঘরেতে তুমি আমি থাকবো জনম ভর।
এই যে আমার একলা আকাশ; একলা একটা বাড়ি; এই যে আমার একলা পাহাড়; বয়ে চলা একলা নদী।
এই নদীতে তুমি নাই।
তোমারে ছাড়া মাঝি
আমি কেমনে কেমনে
কুবের বাঁচি?

চাঁদটা বলুক

কিছু একটা ঘটে যাক। কিছু একটা, ঘটুক না; আমিতো তারই অপেক্ষায়। একঘেয়ে জীবন আমার আর ভালল্লাগেনা। সেই কবে থেকে শীতনিদ্রায় আছি, অথচ বাহিরে হেমন্ত ভেতরে বর্ষা আমার। কখনও ঝড় বাতাস বয় কখনও রৌদ্র ঝলমল আশ্বিন রয়। কই আমারেতো কিছু ছোঁয় না! এবার কিছু একটা ঘটুক থৈথৈ জ্যোস্নায় বানডাকা চাঁদটা এসে বলুক, আমিতো আছি অপেক্ষায়।
চাঁদ, তোর কলঙ্কের ভার আমিও নিবো, প্রমিজ।


প্রথম না আরও বেশি !

তুমিই বোধহয় আমার প্রথম প্রেম ছিলে
কি তুমুল প্রেমই না ছিল আমাদের! ব্যস্ত তুমি অলস আমি। তাও প্রতিক্ষণ কতো যত্ন করে খোঁজ নেয়া, ক'দিন পরপর দেখা করা যেন কোন কমতি ছিলনা কিছুতে। সে দিনগুলিতে, "প্রেম অতোটা টানেনা"বলে থাকা আমিও কি অপলক তাকিয়ে থাকতাম তোমার দিকে, তারপর কোন ঘোষণা ছাড়াই জড়িয়ে ধরতাম, এ যেন কোন নিষ্পাপ শিশুকে আলিঙ্গন করা। তুমিও তখন কম যেতে না, আলতো করে জড়িয়ে রাখতে আমাকে যতোক্ষণ আমার চাই। কিছুক্ষণ পরপর ঠোঁটে,কপালে , ঘাড়ে ছুঁয়ে দিতো তোমার নরম চুম্বন; আপন মনে বিলি কাটতে চুলে। মাঝেমাঝে আমিও অবাক হতাম এই ভেবে যে, আমার সামান্য ঠোঁট উল্টানোও তোমার দৃষ্টি এড়ায় না, এমন কি আমার চোখ,ঠোঁটের নিচে কালো তিল; ঘাড়ের নিচে এলোমেলো চুল সবই ছিল তোমার নখদর্পে। অথচ,আজও তুমি আছো; আজও অক্ষুন্ন আমাদের প্রেম, ব্যস্ত তুমি আজও হয়তো যত্ন করেই আমার খোঁজ নাও, কিন্তু এখন আর দেখা হয়না আমাদের।
আমরা বদলে গিয়েছি ভেতরে ভেতরে।
জানতে ইচ্ছে করে , আমি কি তোমার প্রথম প্রেম ছিলাম ?


লেখক পরিচিতি: ফরিদপুর জেলার নগরকান্দায় বসবাস করেন। সমাজবিজ্ঞান ও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করলেও আগ্রহের জায়গা সাহিত্য। কবিতা লিখেন। গদ্য লিখলেও নিজের কবি পরিচিতিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্বাধীনচেতা, তাই পেশা হিসেবে আইনজীবিই হওয়ার পরিকল্পনা।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top