তানিয়া সুলতানার ছয়টি কবিতা


প্রকাশিত:
১৩ মে ২০২২ ১১:১৫

আপডেট:
৫ জুলাই ২০২২ ০৩:৩০

ফিরে পেতে চাই

আমারো বুকের মধ্যে একটা নদী ছিল।
নদীর দু’কূলে জোয়ারে ঢেউ আছড়ে পড়ত
ঘনকাশফুল বাতাসে দোল খেতো...
পূর্ণিমা জ্যোৎসনায় নদীর ঢেউয়ে
আমি ভেসে যেতাম বহুদূরে...।
শঙ্খচিলের ডানায় আর নদীর ঢেউয়ে
আমি ছন্দ খুঁজেপেতাম।

আকাশের নীল আমার নদীর বুকে ছবি আঁকত।
ওগুলো সব হারিয়ে ফেলেছি কবে...মনে নেই!
এখন আমি নদীর অস্তিত্ব ও খুঁজে পাই না।
সেখানে আজ চর পড়ছে ঘর বেঁধেছি ...
জাগতিক কাজের তোড়জোড় চলে সে ঘরে ।
আমার যাপিত জীবনের খুঁটিনাটিসব হিসেব
লেখা হয় চরের বুকে।

ইচ্ছে হয় আবার যদি ফিরে পেতাম নদী...
ঢেউয়ের আঘাতে মুছে যেতো জীবনের সব কথা।
নতুন করে সূর্যের আলোয় নদীর ঢেউয়ে
ডানা মেলতো শঙ্খ চিল!
কাঁশফুল বাতাসে ভেসে যেতো...
আমিওভেসে যেতাম তার সাথে
দূরে...বহু...দূরে...।


একাত্তরের কান্না আজো

বৈশাখ আসে, ফাল্গুন আসে...
বাঙালির কত উৎসব।
বিজয়ের মাসে, স্বাধীনতার মাসে
জয়বাংলা কলরব।
অথচ বাঙালি, দেখো চেয়ে তুমি
এখনো আছি যে বন্দি।
কত পদাঘাতে নুয়িয়ে মাথা জুলুমের কাছে
প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি সন্ধি।
স্বাধীন বাংলা, স্বাধীন বাংলা
কত না সাজে সাজো...
একাত্তর থেকে ধর্ষিতা মায়ের কান্না শুনি যে আজো।
মায়ের কান্না স্বাধীন বাংলায়
এখনো হয়নি শেষ।
কবে হবে সেই জাতির পিতার
সোনার বাংলাদেশ।
এখনো শৃঙ্খলে বাঁধা, ভোগের পণ্য
হয়ে আছে সব নারী
তারি প্রমাণ দেয় আফসানা, তনুদের
ধর্ষিত লাশের সারি।
নেতা আমাদের নারী হয়েও
এ লজ্জা কি তাঁর নয়?
আর কতদিন মুখবুজে সইব
অত্যাচারিদের ভয়ে?


পৃথিবী হব

আগুন আমাকে পোড়াতে পোড়াতে
নিজেই আগুন হয়ে গেছি!
পুড়ে যাওয়ার আর ভয় নেই আমার।
ফ্রিজে বা হিমাগারে ঘুমোতে চাই না।
ভস্ম হয়ে পৃথিবীর অস্তিত্বে বিলীন হতে চাই ।
অতঃপর , আমিও পৃথিবী হব।


তুমিই আমার ঈশ্বর

আমি তোমাকে একফোঁটা কাজল ধোয়া বৃষ্টি দিতে চাই।
স্পর্শ করে যেন বুঝতে পারো
তোমায় আমি কতখানি চাই!
তুমি আমার সবখানে আছো
অথচ, কোনোখানে নাই!

 

টান

বুকের গভীরে হাতড়ে শুধু তোমাকেই পাই,
আমার দীর্ঘ একাকিত্বের অবসান হয়েছিল
ভেবেছিলাম রক্তকরবি অথবা পলাশের সব রঙ
আমার হয়ে গেছে আজ শেষ বিকেলে !
যদিও বিকেল গড়িয়ে আঁধারের দূরত্ব ভীষণ কাছে
তবুও আঁধারেও তোমাকে খুঁজি
আমার আলো হয়ে আছো দাঁড়িয়ে দুয়ারে ,
নাহ্ , দুয়ারে কোথায় আলো? দেখি আলেয়া!
আমারে ডেকেছে বরাবরই ভুল পথে
এ ভুল, নাকি নিয়তি ডেকেছে মৃত্যুকে !
মৃত্যুর পথেও আমি তোমাকে ডেকে যাই ...
তুমিই আমার তওবা,তুমিই আমার কালেমা
তুমিইআমার ঈশ্বর!


ধূসর ক্যানভাস

তুমি এ কেমন ছবি আঁকো চিত্রকর?
তোমার ক্যানভাসে তুলির আঁচড়ে প্রতিটা রঙেই দেখি বিষন্নতা!
তুমি পূর্ণিমার চাঁদ আঁকো বিষন্ন জ্যোৎস্না ঝরে পড়ে
তোমার ধূসর অরণ্যে হরিণীর চোখে বিষাদ দৃষ্টি!
শাবকের মায়াময় স্পর্শও তাকে ফিরিয়ে দেয় না উচ্ছ্বাস।

অন্ধকারে একা বসে থাকা একটা জীর্ণ দাঁড়কাক,
হতাশা দেখেছি আমি তার চোখেও!
শুনেছি কাকেরা সাথী হারালে আর সাথী খুঁজে নেয় না!
বাকিটা জীবন নিঃসঙ্গ কাটিয়ে দেয়।
তোমার ক্যানভাসে নিঃসঙ্গ কাক কেন?
কেন কোকিল ময়না টিয়া অথবা জোড়া শালিক নেই?
কেন তোমার অরণ্যে কৃষ্ণচূড়া - পলাশেরা ফোটে না?
কেন তোমার ক্যানভাসে সোনালী রোদ্দুর উঠে না?

কেন তুমি তুলি হাতে বিষন্ন হাসি হাসো?
কেন তুমি অরণ্য ধূসর রঙে ভাসো?



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top