নিৎশে চাইতেন রক্ত ঝরানো লেখা

সার্গেই ইয়েসেনিনের রক্ত দিয়া লেখা কবিতা


প্রকাশিত:
২৬ মে ২০২১ ২২:৪৮

আপডেট:
১৭ জুন ২০২১ ২৩:০৫

নিৎশের একটা কথা প্রায়ই আমার মাথায় ঘুরে, "Of all that has been written, I would read only what has been written by the author's blood." নিৎশে শুধু সেই লেখা পড়তেই আগ্রহী যা লেখকের রক্তের কালিতে লেখা। এইখানে নিৎশে অবশ্যই রক্ত বলতে আক্ষরিক অর্থে রক্ত বোঝান নাই (অবশ্য আমি কীজানি কী বুঝাইসে?)। কিন্তু রাশিয়ার কবি সার্গেই ইয়েসেনিন নিৎশে পড়সিলেন কিনা জানিনা, কিন্তু মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি ঠিকই নিৎশের পড়ার মত একটা কবিতা লিখে গেসিলেন।

মৃত্যুর কয়েক বছর আগ থেকেই অসুস্থ সম্পর্ক, ডিপ্রেশন সব মিলায়ে তার মানসিক অবস্থা নিম্নগামী হইতে থাকে। প্রায়ই পাব্লিক প্লেসে মাতাল হয়ে অশোভন আচার-আচরণ করতেন। একাধিকবার গ্রেফতারও হইসেন। একসময় তার সমসাময়িক কবি মায়াকভস্কি লেখসিলেন, "ইয়েসেনিনরে আজকাল খবরের কাগজের কবি সেকশনের চাইতে পুলিশ লগে বেশি দেখা যায়।" তারপর ১৯২৫ সালে একদিন তারে লেখকদের বার হইতে বের করে দেয়া হইলে ব্যাপক হৈচৈ লাগায়ে দেন তিনি, সবাইরে গালিগালাজ করতে করতে বের হয়ে যান। তারপর নিজের হোটেল রুমে গিয়া টানা দুইদিন ভদকা গিললেন। তারপর, ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ মাঝরাতে, নিজের কব্জির শিরা কেটে ফেললেন ইয়েসেনিন, তারপর সেই রক্তের ফোয়ারায় কলম চুবায়ে তাতে লিখলেন তার জীবনের শেষ কবিতাটা। কেন করলেন এইটা? কারণ তিনি নাকি ঘরে কালি খুঁজে পাইতেসিলেন না। তার পরদিন গলায় দড়ি দিয়া আত্মহত্যা করলেন তিনি।

মৃত্যুর আগে ইয়েসেনিনের রক্তের কালিতে লেখা কবিতাটার শেষ লাইনগুলা এরকমঃ

"বিদায়! বোলো না কোনো কথা,
রেখো না হাতে হাত।
কপাল হতে আজ মুছে ফেলো
সকল বেদনার ছাপ।
এই জীবনে
মৃত্যু খুবই পুরনো জিনিস জানি,
বাঁচাও তো আর নতুন কিছু নয়!"

নিৎশের হয়তো পছন্দ হইতো কবিতাটা।

অনেকে আবার মনে করেন ইয়েসেনিনের মৃত্যুটা আত্মহত্যা না, বরং সোভিয়েত সিক্রেট পুলিশ তারে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালায়ে দেয়। তবে ইয়েসেনিনের মৃত্যুতে খুবই আক্রান্ত হইসিলেন মায়াকভস্কি৷ তার লেখা 'সার্গেই ইয়েসেনিনের প্রতি' কবিতায় ইয়েসেনিনের কবিতাটার শেষ দুই লাইনের প্রত্যুত্তরে লেখা, "এই জীবনে মরে যাওয়া খুবই সহজ/কঠিন হলো আদর্শমত বাঁচা।" ইয়েসেনিনের উপর পরবর্তী এক লেকচারে মায়াকভস্কি বলেন, "বিপ্লবের জন্য জীবনকে মহিমান্বিত করতে হবে, মৃত্যুকে গ্লোরিফাই করা যাবে না।"

তার সাড়ে চার বছর পরে, ১৯৩০ সালে, আরো একখানা আত্মহত্যা, মায়াকভস্কি নিজের বুকে গুলি চালান।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top