মোদীর সফর: সুবর্ণজয়ন্তী, নাকি ভোটের রাজনীতি?

‘ভারতের সমর্থনে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাসনে চলে গেছে'


প্রকাশিত:
২১ মার্চ ২০২১ ১৯:৪২

আপডেট:
১৯ এপ্রিল ২০২১ ০৩:০৯

ডয়চে ভেলের ইউটিউব টক শো ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়'-এ এবারের প্রশ্ন ছিল, মোদীর সফর: সুবর্ণজয়ন্তী, নাকি ভোটের রাজনীতি? আলোচনায় অংশ নেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং কলকাতা থেকে দ্য বেঙ্গল স্টোরি-র সম্পাদক বিতনু চট্টোপাধ্যায়৷
অনুষ্ঠানে সঞ্চালক প্রশ্ন জানতে চান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কিনা৷ এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক বিতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘২০১৯ সালে ২০১৪ সালের চেয়েও বেশি ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি৷ বিজেপির একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারা থাকলেও এই যে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ ওঠে, তা শুধু ভারতকেন্দ্রিক নয়৷ এই ধরনের রাজনীতির উত্থান শুধু এই অঞ্চলে নেই৷ গোটা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে৷ বিজেপি বা মোদীকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দেগে দেওয়ার প্রসঙ্গ দুটো সময়ের ওপর ভিত্তি করে রয়েছে৷ এক, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের বাবরি মসজিদের ঘটনার পরের সময়৷ দ্বিতীয়ত, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পরের সময়৷ তবুও ২০০২ সালের পরে ক্ষমতায় এসেছে ২০১৪ সালে৷ আর ২০১৪ সালের ঠিক আগে কিন্তু এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যার জন্য বলা যায় যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন থেকে লাভ করে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে৷ সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের তাসের কথা এ প্রসঙ্গে অতিসরলীকরণ করা হয়ে যাবে৷ ২০১৯ সালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও পরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেমন মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকার গড়তে পারছে না৷ পশ্চিমবঙ্গেও শুধু সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করে জায়গা পায়নি৷ বদলে, বর্তমান শাসক দল তৃণমূলের ত্রুটির বিষয় সামনে এনেছে৷ আজ পর্যন্ত এখনও যা প্রচার চলছে, কোনো মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বা অমিত শাহ কিন্তু তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে, রাজ্য পরিচালনার বিরুদ্ধে কথা বলছে ন৷ আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার গঠন করে ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে৷ সুতরাং, ভারতের সব মানুষের রাজনীতিই যে বিজেপির রাজনীতি, তা নয়৷''
কোনো দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের ক্ষেত্রে সেদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভূমিকার গুরুত্ব স্বীকার করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক একটি উপলক্ষ৷ ভারতের অংশগ্রহণ আমাদের মুক্তি সংগ্রামে রয়েছে এবং কৃতজ্ঞতাও রয়েছে৷ ভারতের একজন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তা স্বাভাবিক৷ কিন্তু সুবর্ণজয়ন্তী প্রসঙ্গে ভারতেরএই প্রতিনিধিকে কেন মানুষ স্বাগত জানাতে পারছে না, তা ভারতের নীতিনির্ধারকদের ভাবা দরকার৷ ভারত তার নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের একটি বিশেষ দলকে বন্ধু ভেবে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে৷ ২০১৪ সাল থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাসনে চলে গেছে, যা প্রত্যক্ষভাবে ভারত সমর্থন করেছে৷ মনে রাখতে হবে, উভয় দেশের সাম্প্রদায়িক শক্তিই একে অপরের হাত ধরে চলে৷ কিন্তু ভারতে তবুও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হয়৷ ভারতের বিপুল বৈচিত্রের কারণে আমি মনে করি বিজেপির রাজনীতি সেখানে দীর্ঘকাল চলতে পারবে না৷ এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ৷ কিন্তু এই পথ বন্ধ হয়ে গেলেই তার স্থানে উগ্রতা জায়গা করে নেয়৷''
আজকের পর্বে এছাড়াও আলোচিত হয় ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা আধিপত্যবাদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব, তিস্তার পানিবণ্টন ও মতুয়া গোষ্ঠীর ভোটের প্রসঙ্গও৷

 



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top