কেন ভ্যাক্সিনের ব্যাপারটি সামাজিক?


প্রকাশিত:
১৬ মার্চ ২০২১ ২২:২০

আপডেট:
১৬ মার্চ ২০২১ ২২:২১

এই লেখাটি সাপিয়েন্সে প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি, ‘What makes vaccine social?’ নামে। এমিলি ব্রুনসন আর মনিকা শক স্পানার লেখাটি অনুবাদ করেছেন সাদিয়া শান্তা

কখনো কখনো মানুষ অতি সতর্কতাবশত ভ্যাক্সিন নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। তাই বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিকে শেষ করতে সমাজ বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কার্যক্রমে যোগ দিয়ে জনগনকে স্বক্ষমতায়নে উৎসাহিত করে তাদের মন থেকে ভ্যাক্সিন গ্রহণের ভয় দূর করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।

আমেরিকাসহ পুরো বিশ্ববাসীর কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন গ্রহণ করার এখন চূড়ান্ত সময়। কিন্তু এই কাজে কিছু সামাজিক বাঁধা রয়েছে যেগুলো প্রথমেই চিহ্নিত করতে হবে।

জরিপে দেখা যায়, শুধুমাত্র আমেরিকাতেই SARS-CoV-2 তে আক্রান্ত হয়ে তিন লাখ আশি হাজার মানুষ মারা গিয়েছে। পৃথিবীব্যাপি ৯২ মিলিয়ন মানুষ সংক্রমিত হয়েছে, যার মধ্যে অনেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে, অনেকে আবার দীর্ঘ মেয়াদী শারীরিক অসুস্থতায় পীড়িত হচ্ছে।

সমগ্র বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ মহামারীর কবলে পড়ে চাকরি হারিয়েছে। খাদ্য ও বাসস্থানের সংকটে পড়ে তারা অর্থনৈতিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে বেড়ে গেছে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা ও পারিবারিক সহিংসতা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসী এখন হতাশ, উদ্বিগ্ন, ভীত, ক্রুদ্ধ, ক্লান্ত। তারা চায় যত দ্রুত সম্ভব এই দুঃসময় শেষ হোক।

কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন আসার বার্তা এখন সেই দুঃসময়ে ইতি টানার এক সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে। কিন্তু তার জন্য প্রথম শর্ত মানুষকে ভ্যাক্সিন গ্রহণে ইচ্ছুক হতে হবে। সমাজ বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছিলেন, ভ্যাক্সিন আসার পর ভ্যাক্সিন গ্রহণে নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা দেখা দিবে৷ আর ভ্যাক্সিন গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করলে মহামারী শেষ হতে আরো দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাবে। তাই সমাজ-বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রচার ও অভিযানের মাধ্যমে জনগণের মন থেকে সেসব আশঙ্কা দূর করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।

নৃবিজ্ঞানীর দায়িত্ব হিসেবে, ভ্যাক্সিনের গ্রহণযোগ্যতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে আমরা দুটি প্রকল্প পরিচালনা করছি: ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের তহবিলে জাতীয় পর্যায়ের রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আরেকটি হচ্ছে কম্যুনিভ্যাক্স, যা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সমানভাবে ভ্যাক্সিন প্রাপ্যতার লক্ষ্যে গঠিত জোট। এছাড়াও ন্যাশনাল হেলথ ইন্সটিটিউট, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ভ্যাকসিন সেফটি, লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের ভ্যাকসিন কনফিডেন্সসহ আরো কিছু দল এই লক্ষ্যে কাজ করছেন। তবে আরো অধিক গবেষণা প্রয়োজন। ভ্যাক্সিন নিতে কারা ইচ্ছুক, কারা ইচ্ছুক নয় এবং ইচ্ছুক না হওয়ার পেছনে কারণ কী সেসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ভ্যাক্সিন গ্রহণের ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যোগানের মধ্য দিয়ে যে কেউ প্রত্যক্ষভাবে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারে। আবার, বিশ্বব্যাপী ভ্যাক্সিনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হলে আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর মাধ্যমে ভ্যাক্সিন যারা গ্রহণ করেনি তাদেরও পরোক্ষভাবে সুরক্ষা দিতে পারে। এই সুরক্ষা (যাকে বলা হয়ে থাকে Community Immunity) প্রদানের মাধ্যমেই ভ্যাক্সিনের সফলতা নিশ্চিত হয়। ভ্যাক্সিন প্রয়োগের মাধ্যমে বসন্ত রোগ নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিল। এমনকি এর সাহায্যে পৃথিবীর বেশ কিছু জায়গায় হামের মাত্রা কমিয়ে আনাও সম্ভব হয়েছে। এই ভ্যাক্সিনেশন কিংবা টিকা প্রদানের মাধ্যমেই পৃথিবী থেকে রোগ-ব্যাধি দূর করে পৃথিবীকে আবার ‘স্বাভাবিক’ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

মহামারীর শুরুর দিকে কোভিড-১৯ বিপর্যয়ের সমাধান হিসেবে ভ্যাক্সিনেশন প্রক্রিয়া খুব প্রশংসিত হয়েছিল। অবিলম্বে বিশ্বের সেরা সেরা ওষুধ কোম্পানির বিজ্ঞানীরা কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলিও এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করার চেষ্টা করে। যেমন- গত ৫ই মে মার্কিন সরকার ১০ বিলিয়ন পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের Operation Warp Speed ঘোষণা দেন। এই অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল “কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনের উৎপাদন, বিকাশ ও বিতরণকে ত্বরান্বিত করা”।

এই সমস্ত প্রচেষ্টা অবশেষে বিরাট সফলতা এনে দিয়েছে। এই লেখাটা যখন আমি লিখছি, আমেরিকায় তখন দুটি ভ্যাক্সিন ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে- ফাইজার বায়োটেক এবং মডার্না (Pfizer-BioNTech and Moderna), পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাতটি ভ্যাক্সিন অনুমোদন পেয়েছে এবং ৮৩টি ভ্যাক্সিন নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। সাধারণত কোন ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের পর তার নিরাপদ বিকাশে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিনগুলো কেবল সহজলভ্য হয়ে এলেই মানুষ তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে।

মানুষ ভাইরাসের মতো সরল নয়। মানুষের আছে ইতিহাস, ব্যক্তিগত মতামত ও চাহিদা। তারা সমাজের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এবং তাদের প্রত্যেকের আছে ভিন্ন ভিন্ন দর্শনের রূপরেখা। প্রতিটি মানুষ কোন না কোন সংস্কৃতির সদস্য। একেক সংস্কৃতি শরীর, রোগ ও চিকিৎসার একেক রকম সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা প্রদান করে; যা হয়তো সবসময় বায়োমেডিসিনের ধারণার সাথে খাপ খায়না, তবে সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গত নয় মাসের জরিপের উপর নির্ভর করে বলা যায়, ভ্যাক্সিন অনুমোদনের পরও প্রত্যেকে ভ্যাক্সিন নিতে সম্মত হবে না। সময়ের সাথে সাথে যদিও এই অসম্মতির মাত্রা কমে এসেছে, তবুও ভ্যাক্সিন না নেওয়ার প্রবণতা এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়ে গেছে। যেমন- আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা, ৩০-৪৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্করা এবং রিপাবলিকানরা কথায় কথায় ইঙ্গিত দিচ্ছে তারা ভ্যাক্সিন গ্রহণে তাদের বিরোধীদের (counterparts) তুলনায় কম ইচ্ছুক। তবে ভ্যাক্সিন গ্রহণে তাদের এই অনিচ্ছা প্রকাশের পেছনে কারণ ভিন্ন ভিন্ন।

ফাইজার ও মডার্নার ডোজ যাদের মধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে, ইতিমধ্যে তাদের অনেকেই ভ্যাক্সিন নিতে অসম্মতি জানিয়েছেন। যেমন- ওহাইয়ো’র নার্সিং হোমগুলোর কর্মীদের মধ্যে ৬০% কর্মীই ভ্যাক্সিন নিতে অসম্মতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভ্যাক্সিন গ্রহণে ইচ্ছা-অনিচ্ছার পেছনে কিছু সামাজিক প্রভাব রয়েছে। আদর্শ বিশ্বের কথা চিন্তা করলে ভ্যাক্সিন বিতরণ পরিকল্পনার শুরুতেই সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। Operation Warp Speed এর প্রক্রিয়াগুলোয় সামাজিক বিজ্ঞানের ধারনাগুলোকে বিবেচনা করার মাধ্যমে হয়তো টিকা গ্রহণে অনিচ্ছুক বিভিন্ন বর্ণগত আর জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকে প্রভাবিত করা যেত। বেশিরভাগ মানুষই চিকিৎসা সংক্রান্ত আবিষ্কারে “দ্রুত বিকাশের” প্রতি গুরুত্বারোপ করে না। বরং ধীরগতিতে নিরাপদ বিকাশের প্রতিই মানুষ আস্থা রাখে। যেমন- H1N1 ভ্যাক্সিনের কথাই ধরা যাক। নতুন স্ট্রেইনসহ ভ্যাক্সিনটি এক বছরের মধ্যেই ফ্লু ভ্যাক্সিনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে এই ভ্যাক্সিনটি খুব কম সময়ে “তাড়াহুড়ো” করে আবিষ্কার করে হয়েছে। ফলে জনমনে আশঙ্কা দেখা দেয়, ভ্যাক্সিনটি “অনিরাপদ” বলে গণ্য হয়।

কিন্তু আমরা তো আর কোন আদর্শ বিশ্বে বাস করি না! তাই আমাদের সমাজবিজ্ঞানীরা সরাসরি নয়, বরং কিনারা থেকে ভ্যাক্সিন গ্রহণের সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধান করার কিংবা সামাজিক বিষয়গুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই পদ্ধতি সমস্যাযুক্ত। এভাবে সমস্যার গোড়ায় পৌছে সমাধান সম্ভব নয়।

ভ্যাক্সিন গ্রহণের ক্ষেত্রে মোটা দাগে চিহ্নিত কিছু সমস্যা ইতোমধ্যে গবেষকদের মনোযোগ কেড়েছে। যেমন- ভ্যাক্সিন আবিষ্কার ও বিতরণ সম্পর্কিত তথ্য জানার প্রতি জনগণের চাহিদা, বিশ্বস্ত মুখপাত্রের কাছ থেকে ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতার ভরসা পাওয়া, ভ্যাক্সিন প্রযুক্তি সম্পর্কিত খবরাখবরের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি। তবে এর বাইরেও কিছু সূক্ষ্ম সমস্যা রয়েছে যা নিয়ে আরো বৃহত্তর পরিসরে আলোচনা প্রয়োজন। এই সূক্ষ্ম সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে বর্ণগত ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভ্যাক্সিন গ্রহণের প্রতি অনীহা। কেননা মহামারীতে তাদের সংক্রমিত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি, তাদের মৃত্যুহার বেশি এবং তাদের চাকরি হারানোর হারও সবচেয়ে বেশি। এই অবস্থায় ভ্যাক্সিন গ্রহণের নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হতে পারছে না; বরং তারা শঙ্কিত হচ্ছে। ফলে ভ্যাক্সিন গ্রহণে সংখ্যাগুরুদের তুলনায় বিভিন্ন বর্ণগত ও জাতিগত গোষ্ঠীদের অধিক অনীহা প্রকাশ পাচ্ছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু কারণ আলোচনায় উঠে আসে। যেমন- কাঠামোগত বর্ণবাদের ধারণা, পক্ষপাতদুষ্ট স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অর্থাভাব এবং ১৯৩২-১৯৭২ সালে তুর্কীতে সিফিলিস গবেষণার মতো কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা (এই গবেষণায় উঠে আসে দক্ষিণের ৩৯৯জন কৃষ্ণাঙ্গ ২৫ বছর ধরে চিকিৎসা গ্রহণে অনিচ্ছা জানায়)। এখানে স্বাস্থ্যসেবার অর্থাভাবের পাশাপাশি সেবাদানকারীদের দক্ষতারও অভাব রয়েছে। ফলে, SARS-CoV-2 আবির্ভাবের অনেক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আমেরিকার জনস্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতির উপর ভরসা হারিয়েছিল। একইভাবে কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন গ্রহণের প্রতিও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা পুরোপুরি আস্থা ও ভরসা রাখতে পারছে না। এই ধরনের জটিল সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করা যায় না। কেবল শিক্ষা ও উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ কিছু বিষয় প্রভাবিত হয় সাংস্কৃতিক বিশ্বাস দ্বারা। ব্যক্তি তখন পরিচালিত হয় তার মনের গভীরে ধারণ করা সেসব বিশ্বাসের দ্বারা।

প্রায়োগিক নৃবিজ্ঞানী হিসেবে আমরা যেকোনো সমস্যাজনক পরিস্থিতিকে ঠিকঠাক করার জন্য কার্যকর সুপারিশগুলি সরবরাহের গুরত্ব অনুভব করি। জনহিতকর উপদেশ হিসেবে সরকারি প্রতিবেদনে আমরা বর্ণগত ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের এই আশঙ্কার ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছি। যেমনঃ আমেরিকায় বসবাসকারী প্রত্যেকের জন্য বিনা খরচে কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন সরবরাহ করা; সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে তাদের উদ্বেগ ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা; ভ্যাক্সিন বিতরণের কৌশলগুলি ন্যায্যা ও নৈতিকভাবে উপস্থাপন করা; কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন প্রদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

এখানে শেষ আলোচ্য বিষয়টি সবচেয়ে জটিল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়া একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে এবং যেখানে ভ্যাক্সিন সরবরাহ করা হবে (যেমন- ফার্মেসী, গীর্জা) সেসব জায়গার মানুষদের ভ্যাক্সিন সম্পর্কে পরিচিতিকরন কার্যক্রমে যুক্ত করে; সামাজিক বিকাশের বার্তাবাহকদের উন্নয়ন প্রচার করে এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্মী ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করে যাতে করে বর্তমান সংকট পার করে ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় মোকেবেলায় সকলে সংঘবদ্ধ হতে পারে।

গত নয় মাস ধরে আমরা দুজন (Emily Brunson এবং Monica Schoch-Spana) এবং আমাদের আরো ক’জন সহকর্মী মিলে উত্থিত পরামর্শগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা জাতীয় প্রতিবেদন লিখেছি, বড় বড় সংবাদ সংস্থাগুলিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছি, জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছি এবং পেশাদার সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালিত ওয়েবিনারে সেসব পেশ করেছি। কম্যুনিভ্যাক্স পরিচালনা কাজে আমেরিকার স্থানীয় নৃবিজ্ঞানীর দলগুলো সেখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাথে সরাসরি কাজ করছে। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণের সামাজিক সমস্যাগুলো আরও বিস্তৃতভাবে মোকাবেলা করার জন্য যে নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন, আমরা সেই পরিবর্তনের পক্ষে অনবরত সমর্থন করে যাচ্ছি।

আমরা আশা করি, ভ্যাক্সিন কার্যক্রম সফল হবে, মহামারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। জীবন আগের মতো সুন্দর স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। জনস্বাস্থ্যসেবা ও বায়োমেডিসিনের আরো উন্নতি হবে। সমাজ বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় মহামারী নীতি অনুশীলন ও সংহতকরণের ফলে এই আশাগুলো একদিন বাস্তবায়িত হবে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top