দাঁড়াবার মাটি


প্রকাশিত:
২৫ মার্চ ২০২১ ১৬:১৬

আপডেট:
৩১ মার্চ ২০২১ ১৫:০৫

নুসরতের সঙ্গে দেখা। আমরা তখন নতুন স্মার্ট হয়েছি। সেই সময় এবং বয়সটাই স্মার্ট হওয়ার বা কথিত স্মার্ট ভাব করবার! নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হলে, ঝুঁঁকে পড়ে হ্যান্ডশেক, ভণিতা, ভূমিকা ও বাচালতা ভরা চোখ ঝলমলানো কায়দায় নিজের নাম বলা ও এমন ভাব করা যেন জীবন এবং সবকিছুই এক স্থায়ী কৈশোরিক দশা। তেমন সময়ে নুসরতের সঙ্গে পরিচয়। সে ছিল টিন বয়সের শেষ প্রান্তে। আমিও তাই। আমরা একই বছরে দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেছি- এ কথা পরে জেনেছি। নুসরত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী। বন্ধু ফারুক পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। ফারুক মুগ্ধ হওয়ার যাবতীয় কবিতা লিখত। চলাফেরার শৈলী, ভঙ্গিমা সব ছিল চে গুয়েভারার চাক্ষুষ প্রতিদ্বন্দ্বী।
 
উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর সব বন্ধু যখন বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজগুলোতে পড়তে চলে গেল আমি তখন প্রায় কোথাও আবেদন করবারই সুযোগ পেলাম না। কারণ পরীক্ষার ফল ছিল তৃতীয় ধরনের দ্বিতীয় বিভাগ। ওই ফলে আবেদনই করা যেত না। ফলে ব্যর্থ তরুণ-যুবার দোটানা লয়ে, কখনও এক্সটেসি, হিস্টামিন, চরস-গাঁজা, ফেনসিডিল সেবন করার চেষ্টা, 'কিছুই হলো না, হবে না' ভাব ধরা, 'লুজার' ইমেজের বাজারজাতের চূড়ান্ত মহড়া, এসব আর কি। হতাশা কাটাতে বন্ধুদের পরামর্শ ছিল 'প্রেমে' জড়ানো; সে সবের কোনো দাওয়াই-ই কাজ করেনি। অবশেষে কাউনিয়া এলাকা থেকে শহরের বিপরীত মাথায় আলেকান্দা সংলগ্ন বরিশাল মেডিকেলে যাতায়াত শুরু। পুরনো বন্ধুরা যারা ওই চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তাদের অবসরের আড্ডায় যোগ দেওয়া। সেই নিয়মেরই ফল ছিল নুসরত।
 
তার চোখের রঙ আমার জন্য খুব দ্বিধার ছিল। গভীর ভ্রম হতো গাঢ় বাদামি, হালকা নীল অথবা সবুজের মিশ্রণ ভেবে। অত আলাদা রঙ না খুঁজে ধরে নিতাম 'রঙধনু চোখ'। তুলনায় পাপড়িগুলো বড়। মনে হতো অকারণে তাতে শিশির জমেছে। দীর্ঘ বিরতির পর পলক পড়ত। ভাবতাম, আহা চোখের পাতা পড়াটা যদি আরও ক'মুহূর্ত বিলম্বিত হতো! সরাসরি তাকিয়ে কখনও আমাদের সাধারণ কথা হয়েছে কি-না মনে পড়ে না। যদিবা দু'একবার তা সাধারণ নয়; আগেই ইঙ্গিত করেছি। চোখে চোখ রেখে কথা বলবার মুহূর্তগুলো বুকের কোথাও খামচিটা ধরে আছে এখনও; এই যুগ-যুগ পরও সেটা টের পাওয়া যায়। সেকি কেবল আমারই অসহায় বুক, নাকি তারও অবদান ছিল?
 
ঢেউ তোলানো চুল আধা উল্টা আঁচড়ানো, আছড়ে পড়ে থাকে লম্বা গলার ওপর, অদ্ভুত কৃষ্ণকায়-সোনালি রঙ। ছোটবেলায় বড় মামার সাথে ঝাউতলার সোনালী সিনেমা হলে দেখা আলফ্রেড হিচককের 'রিয়ার উইন্ডো' ছবির গ্রেস কেলির মতন। ভ্রু, কপাল, গাল, নাক, চিবুক, ঠোঁটের সবই গ্রেস কেলির সঙ্গে বিনিময়যোগ্য। আগে ক্যান্টিন অথবা ক্যাম্পাসের অন্য কোথাও দেখে থাকতে পারি। প্রায় ছয় ফুট লম্বা, জিন্স অথবা ড্রেস প্যান্ট, সামনে বোতাম লাগানো (বাটন ডাউন) জামা। দ্বিতীয় বোতাম খোলা, বোতাম স্পট বরাবর খুব চিকন সিলভার চেইনে ঝুলে দোলে বনঘাসে সদ্য গজানো কচি পাতার হালকা সবুজাভ পেন্ড্যান্ট। একগোছা চুল বাম কপাল দিয়ে মাঝ নাক ছুঁয়ে গাল ধরে ডান কানের পাশে দুলে যেতে থাকে। তখন ফারুক চে গুয়েভারার ইমেজে নেরুদার বিপ্লবী কবিতার মতন আমাকে পরিচয় করায়। নুসরত, আমীর আলী, আমীর আলী, নুসরত। এমন করে হাসি, মাথা নাড়ানো, চোখের পাপড়ি শিশিরের ভারে পলক পরা, যেন আমি তার চেনা। আর তাকে রিইনকারনেশন প্রাক্কালে আমি চিনি। ভেতরে লজ্জিত হই, এত অস্থির হওয়ার মানে নাই। বিচলিত অথচ তাকে পরিতুষ্ট করবার (ইমপ্রেস!) সেকি চেষ্টা আমার! গলা শুকায়, দৃষ্টিতে ঝাপসা অনুভূত হয়, কানে উত্তাপ টের পাই, নিশ্চয়ই এতক্ষণে তা লাল আভায় পরিণত হয়েছে। হেসে নাম বলে 'নুসরত'। নিজের ডান হাতের আঙুলগুলো কেন জানি না, বাম হাত দিয়ে ধরলাম। কেন জানি না বলা কি ঠিক হবে? জানতাম তো, সেটা স্নায়বিকতা। এ-ই কি 'প্রথম দর্শন ভালো লাগা'? ফার্স্ট সাইট ক্র্যাশ? হোক, ফারুকের সেখানে অস্তিত্ব থাকে না। বললাম, 'আহ্?, নুসরত'। স্বাভাবিক থাকবার এক মরণ চেষ্টা! বললাম, 'আমি আরও দু-জনকে জানি যাদের নাম নুসরত'। ফারুক এই ফাঁকে চলে গিয়েছিল? স্মরণে নেই, এত দিন পরে। ও কথা শুনে একটু হাসল হয়তো, যৎসামান্য হাসি তাকে বলা যায়। আমার দিকে নয়, আবার ভিন্ন কোথাও না তাকিয়ে 'আচ্ছা'! ভাবলাম এর পর বলবে, 'তাই বুঝি'। ও রকম কিছুই নয় বরং 'হুম্; ইন্টারেস্টিং, দু'জন কারা?' ভয়ও হলো ভেবে, সেকি ভাবল অন্য কোনো মেয়েদের নাম? কিংবা সে রকম কিছু? অবশ্য চাউনি, কণ্ঠে, এসবের তেমন ইঙ্গিত ছিল না। বললাম, 'একজন কাওয়ালি সংগীতশিল্পী, পাকিস্তানের ফতে আলী', ইচ্ছে করে ফতে আলীর পওথম নাম উচ্চারণ করলাম না। 'একজন জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রী, কুর্দি, ইরানি বংশোদ্ভূত'। পরীক্ষার ফল তৃতীয় মানের দ্বিতীয় শ্রেণী হলেও নিষ্ঠাবান সংবাদপত্র পাঠক হিসেবে ওইসব নাম আমি জেনেছিলাম। মনে হলো, চব্বিশ সেকেন্ডের একভাগ সময়ের জন্য তাকাল। সেই-ই জীবনের প্রথম চোখে চোখ রেখে কথা বলা। তার পর মাটিতে তাকিয়ে, যেখানে ক্যান্টিনের জানলায় আসা রোদে একটি গাছের ছোট ডালের পাতার ছায়া মেঝেতে দুলছিল, সেখানে চেয়ে থাকল, অসীম বিষণ্ণতায়, ক্যান্টিনভর্তি অত ছাত্রছাত্রী থাকা সত্ত্বেও অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছিল, জগতে দাঁড়াবার মাটি নামে অবশিষ্ট থাকল না। একটা সময় পার হওয়ার পর নীরবতা ভাঙল 'আপনার চেনা নামের দু'জনকে কেন পাকিস্তানেরই হতে হবে?' আমাদের কথা থাকেনি এর পর। নির্বুদ্ধিতা, হতবাক, এ ছাড়া ভাবা যায়নি- কেবল, কী হতে পারে ওদেশের নামটিতে? এই বিষণ্ণতার পেছনে? তার বাবাকে পাকিস্তানিরা হত্যা করেছে? মা অথবা বোন ধর্ষিত? নাকি নিজেই তখন বালিকা-কালে ধর্ষণের শিকার? ভাই যুদ্ধে শহীদ? এসব সম্ভাবনার কথা মনে হয়েছিল।
 
সেটাই মেডিকেল ক্যান্টিনে যাওয়ার শেষ দিন। সেখানে কখনও এরপর যাওয়া হয়নি, যাইনি। এর কিছুদিন বাদে দাদু অসুস্থ হয়ে সেখানে ভর্তি হলে একদিন প্রফেসরদের সঙ্গে এসেছিল। দাদুর সঙ্গে যেই স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলছিল, হাতের নার্ভ দেখছিল, স্টেথোস্কোপ দিয়ে চেক করছিল যেনবা কমরেডের কোনো মেয়ের ঘরের নাতনি। যাওয়ার আগে সামনে এসে দাঁড়াল, 'যদি বলতে পারতাম সেদিনের বিষয়টা ভাঙ্গিয়ে!' উত্তর না দিয়ে ডান হাতের পাতাটা তুলি, যার অর্থ করি- ও কিছু নয়, ঠিক আছে। নীরবতা ভেঙে বলল, 'আমি খুবই দুঃখিত, তোমাকে মোটেই কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না।' আগের মতন অনুত্তরিত থাকি। এমনভাবে হাত অ্যানিমেট করি যার অর্থ দাঁড়ায়- ধ্যাত, ও কোনো ব্যাপার না। এর পর নীরবতা আসে, সেই ফাঁকে অনুভব করলাম, আমাকে 'তুমি' সম্বোধন করছে। ভাবলাম, হতে পারে অজ্ঞাত কারণে মায়া জন্মেছে। মাটিতে, জানলায় না হয় কোনোদিক ফিরে এবং তৃতীয় বারের মতো প্রশ্ন করল- 'তুমি মেডিকেলের ক্যান্টিনে আসছ না আমাকে অপরাধী অনুভূতিটা দেওয়ার জন্য?' সরাসরি তাকাল, 'পারলে সেদিনের সময়টা ফিরিয়ে নিতাম।' আমি কোনো কথারই উত্তর করি না। আগের মতনই ভাব করছি- ওসব কিছু না, কোনো কিছুই যে কোনো কিছু না।
 
যাওয়ার জন্য হাঁটা শুরু করলে সঙ্গে হাঁটলাম। একটু আগে ওয়ার্ডের ফ্লোর ডেটল জল দিয়ে পরিস্কার করা হয়েছে। ফ্যানগুলো জোরে চালানো মেঝে দ্রুত যাতে শুকায়। ও রকম হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়ল ওড়না পরেছে। এর আগে যতবার দূর থেকে দেখেছি পরিচয় হওয়ার আগেও কখনও ওড়না পরতে দেখিনি। সিল্ক্কের, হালকা সাদার সঙ্গে সবুজ ম্যাপেল পাতার ছাপ, ফ্যানের বাতাসে ওড়নার প্রান্ত আমার মুখের ওপর এসে পড়ল। ওড়না সরাবার কালে দেখি হাসছে, এক নিদারুণ বিনোদনে। ওড়নার কোনাটা আলতোয় এক মুঠিতে আরও এক মুঠ যোগ দিল; মনে হয় নিশ্চিত করল আবার না উড়ে এসে আমার মুখে পড়ে। ওয়ার্ডের শেষ মাথায় এসে একটু দাঁড়াল। সেই বিভ্রান্তিকর রঙের রঙধনু-চোখসহ, সরাসরি তাকাল। তাকানোর সেইটুকু সময়ের মধ্যে একবার চোখের পাতা পড়ল, হায়! চোখের পাতা পড়ল, পাপড়ি দুলে গেল, নিভৃতে ভাবি, তার চোখ!
 
পরে দাদুর কাছে শুনলাম। আরও একদিন এসেছিল এবং তারা অনেক গল্প করেছে। বুঝলাম, নিশ্চয়ই আমার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছে। বললাম, দাদু তুমি নিশ্চয়ই বলেছো আমি তোমার 'এতিম নাতি'। জানালো, 'সে যে বলতেই চেয়েছি তা তো নয়ই, মেয়েটি যেমন ভাবে জানালো ওর বাবাকে ডিসেম্বরে পাকিস্তানিরা তুলে নিয়ে গেছে আর ফেরেনি। এমনকি লাশও পায়নি, যা বলেছি তখন এবং প্রাসঙ্গিক।' দাদু জানে আমার এর পরের অংশও পছন্দ নয়, যা বলে থাকতে পারে। যোগ দিল, সেই প্রসঙ্গে বলেছি আমার একমাত্র ছেলেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে! দাদু বাবার মৃত্যু বিষয়ে কখনও শহীদ নয়তো মুক্তিযুদ্ধ শব্দ ব্যবহার করে না এক ধরনের বিনয় থেকে। কিন্তু এই প্রথম করেছে মেয়েটির কাছে। দাদু ও আমি এসব বিষয় ব্যক্তিগত রেখে থাকি। কেন নুসরতের সঙ্গে 'শহীদ' শব্দ ব্যবহার করেছে তা জানা হয় না।
বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যখন দাদুর লাশের রিলিজ প্রক্রিয়া চলছিল, আগেই দেখেছি নুসরত সেখানে। কথা বলিনি, যাবতীয় কাজে ব্যস্ত ছিলাম, তাকে এড়াতে ব্যস্ত থাকতে চেয়েওছিলাম। এ সময়ে কাছে এলো, 'এক মিনিট সময় দেবে?' আগের মতই বিনীত, 'নিশ্চয়ই' বললাম। একটু পাশে হাঁটল আমাকেসহ, সামান্য আড়ালের দিকে, যদিও মোটেই তা নয়। 'তোমার দাদু কয়েকটা কথা বলেছে'। মাথা নাড়ি। মুহূর্ত ভাবলাম, মেয়েটি সম্ভবত কাঁদবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেখলাম তেমনটি না। বেশ শান্ত কণ্ঠে, 'কমরেড বলেছে তার মৃত্যুর পর তোমার রক্ত-জগতে কেউ থাকবে না।' মাথা নাড়লাম এমনভাবে, যেন ঠিক আছে। সেসব ঠিকই। সে বলে যেতে থাকে, 'আরও একটা কথা, ওটা এখন বলব না। কিন্তু অন্য কথা হলো, তুমি যেন তোমার বাবার ওপর আক্ষেপ না রাখ, তোমাকে ছেড়ে যুদ্ধে গিয়েছিল বলে।' জানি দাদুর এই পাগলামিটা আছে। তিনি একটি জায়গায় মনে করেন, বাবা আমাকে এত ছোট রেখে যুদ্ধে না গেলেও পারত। ওটা একান্ত তারই মত; আমার নয়। দাদু একথা আমাকে একাধিকবার বলেছে, ভাবি নুসরতকে কেন বলতে গেল? এবার সব সামাজিকতা অবহেলা করে হাত ধরল। এমন স্মৃতি নেই, মা ছাড়া এই পৃথিবীতে নারী আদরে (হয়তো দাদিও) আমাকে ছুঁয়েছে। মাও মরেছে ও সময়ে দশ বছরের বেশি। 'তোমার দাদু আশা করে তুমি তোমার মায়ের আত্মহত্যা নোট পড়।' হাত নিজে আমি ছাড়াতাম কি-না জানি না। হয়তো হাত ছাড়াবার ইচ্ছাটাই কোনোদিন হতো না।
 
এটা প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর আগের ঘটনা। কোনোদিন নুসরতের সঙ্গে দেখা হয়নি এরপর, যোগাযোগও নয়। জানিও না কোথায় কেমন আছে। জানবও না। হতে পারে এক অসম্পূর্ণতায় থাকবে যেহেতু দাদুর বলা কথাটি শেষ দিন বলতে গিয়েও বলেনি। ভেবেছে, হয়তো কোনো এক সময়ে বলবে। অথচ আমি সে কথা জানি। কেননা, দাদু আমাকে তথ্যটা জানিয়ে দিয়েছিল। আমার জগতে কমরেডের পর রক্তের কেউ না থাকলে, একটা নতুন রক্ত সম্পর্ক শুরু হবে আশায় নুসরতকে বলেছিল, সে যেন তার একা হয়ে থাকা নাতির খোঁজ নেয়।
 
নুসরত সম্পর্কে এখন এতদিন পর প্রায় স্মৃতিশূন্য, যদিও গ্রেস ক্যালির চেহারাটা ভুলিনি। যেদিন নুসরতের ওড়না এসে মুখে পড়েছিল, সরিয়ে দেওয়ার পর যখন ওড়নার আঁচল হাতের মুঠোয় নিয়েছিল, মনে হতে পারে তা আদর করে, বলেছিল :'শোনো, রুমমেট ইয়াস্না জোর করে মাসে একদিন চুলে ওর মায়ের দেওয়া ভেষজ তেল মেখে দেবে'। ঘাড় ঘুরিয়ে চুলে তাকাই। দেখলাম আরক্তিম-লাজুকতা, ব্লাশ শব্দটার সাক্ষাৎ দর্শন! এর পর গালভরা রক্তগোলাপের লাজুকতা লয়ে- 'কাল রাতেই সেই তেলটা দিয়েছে। চুলের তেলের গন্ধটা ওড়নায় যেতে পারে, ভেবেই খারাপ লাগছে, ওড়নাটা তোমার মুখেই পরতে হবে।'
সেই ওড়নায় পাওয়া ভেষজ তেল এবং চুলের রাসায়নিক সৌরভটা এখনও কখনও মুক্ত বাতাসে থাকে, তা টের পাই ঢের বেদনায়।
 
আনোয়ার শাহাদাত : জন্ম বরিশালে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। লেখক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার বিখ্যাত বইগুলো হচ্ছে , সাঁজোয়া তলে মুরগা, হেলে-চাষার জোয়াল বৃত্তান্ত।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top